মুম্বই: মায়ানগরীর সমুদ্রসৈকতে আস্ত তিমি শাবক। আরব সাগরের জলের তোড়ে ভেসে এসেছিল। সেই নিয়ে দিনভর উত্তেজনা ছিল মুম্বইয়ে। একাধিক সংস্থা তিমি শাবকটিকে উদ্ধার করতে নেমেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়ে গেল সব প্রচেষ্টা। মৃত্যু হল তিমি শাবকটির। (Humpback Whale Washes Ashore In Mumbai)
শনিবার মুম্বইয়ের বান্দ্রা উপকূলে ২৬ ফুট লম্বা ওই ‘হাম্পব্যাক’ তিমি শাবকটি ভেসে আসে। সাত সকালে কার্টার ক্লাবের কাছে সমুদ্র সৈকতে পড়ে থাকতে দেখা যায় সেটিকে। বান্দ্রা-ভারসোভা সি লিঙ্ক প্রজেক্টে নিযুক্ত কর্মীরাই প্রথমে তিমি শাবকটিকে দেখতে পান। প্রাথমিক পর্যায়ে তিমি শাবকটি বেঁচেই ছিল। তাই জরুরি ভিত্তিতে উদ্ধারকার্য শুরু হয়। (Mumbai News)
তিমি শাবকটিকে উদ্ধার করতে নামে বন দফতরের ম্যানগ্রোভ বিভাগ, বৃহন্মুম্বই পুরসভা, মুম্বই দমকল বিভাগ এবং বন্যপ্রাণী চিকিৎসকদের দল। তিমি শাবকটিকে সবরকম সহযোগিতা জোগানোর চেষ্টা করেন সকলে। সেটিকে বালি থেকে ফের গভীর জলের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা শুরু হয়।
কিন্তু একটা সময় পর নড়াচড়াই বন্ধ করে দেয় তিমি শাবকটি। বন দফতর এবং স্থানীয় মৎস্যজীবীরা পরীক্ষা করে বুঝতে পারেন যে তিমি শাবকটি মারা গিয়েছে। শেষ পর্যন্ত এক প্রশাসনিক আধিকারিক জানান যে, ২৬ ফুট লম্বা তিমি শাবকটি মারা গিয়েছে।
‘হাম্পব্যাক’ তিমি পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্তম স্তন্যপায়ী সামুদ্রিক প্রাণিক। পূর্ণবয়স্ক অবস্থায় তাদের দৈর্ঘ্য হয় ৫০ থেকে ৬০ ফুট। জল থেকে লাফিয়ে ওঠা, কসরত করার জন্য বিখ্যাত তারা। পাশাপাশি, তাদের ডাকও বেশ মায়াবী এবং সুরেলা। প্রতি বছর হাজার হাজার কিলোমিটার পথ পেরিয়ে শীতল থেকে উষ্ণ ক্রান্তীয় অঞ্চলের জলভাগে প্রবেশ করে 'হাম্পব্যাক' তিমি। মূলত প্রজননস সন্তান প্রসব এবং শাবককে স্তন্যপান করানোর জন্যই মেরু অঞ্চলের শীতল জলরাশি থেকে উষ্ণু ক্রান্তীয় অঞ্চলের জলভাগে প্রবেসশ করে তারা। কারণ হাড় কাঁপানো ঠান্ডা তিনি শাবকদের জন্য বিপজ্জনক।
আরও পড়ুন: আইফেল টাওয়ারের মাথায় বজ্রপাত, শিউড়ে ওঠার মতো দৃশ্য, ভিডিও ভাইরাল
মুম্বই উপকূলে সচরাচর এমন ঘটনা চোখে পড়ে না। তবে ঋতু পরিবর্তনের সময় আরব সাগর পেরোয় সামুদ্রিক প্রাণীরা। সামুদ্রিক প্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, কখনও কখনও মায়ের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে তিমি শাবকরা। অসুস্থ হয়ে পড়ে, আঘাত পায় গতি হারিয়ে ফেলে। সেই অবস্থায় ঢেউ উপকূলে এনে ফেলে তাদের। সাগরের উথালপাথাল অবস্থা, আন্ডারকারেন্ট একেবারে কাবু করে ফেলে। এই তিনি শাবকটি কী ভাবে মারা গেল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, সমস্ত পরীক্ষানিরীক্ষা, নথিভুক্তিকরণের পর দেহটি সমাধিস্থ করা হবে।
