আজ ৭৯ তম স্বাধীনতা দিবসে পতাকা উত্তোলন  করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। জাতীয় সঙ্গীতে অনুরণিত হল লাল কেল্লা । তেরঙ্গা পতাকায় সেজে উঠেছে গোটা দেশ। সকালেই লালকেল্লায় গিয়ে পতাকা উত্তোলন করেন প্রধানমন্ত্রী। সকালে রাজঘাটে মহাত্মা গান্ধীর সমাধিস্থলে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন প্রধানমন্ত্রী।  তারপর তিনি আসেন লালকেল্লায়। সেখানে তাঁকে স্বাগত জানান প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। সকালেই দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রথা মেনে  প্রতি বছর স্বাধীনতা দিবসে লাল কেল্লায় পতাকা উত্তোলন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

লালকেল্লায় পৌঁছনোর পর প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অফ অনার দেওয়া হয়। এরপর ২১ বার তোপধ্বনির মধ্যেই জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন প্রধানমন্ত্রী। আকাশপথে পুষ্পবৃষ্টি করে সেনার কপ্টার, তাতে লেখা ছিল অপারেশন সিঁদুর। স্বাধীনতার ৭৮ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে দিল্লি-সহ সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নিরাপত্তা আঁটোসাঁটো করা হয়েছে।  

প্রধানমন্ত্রী আজ লিখেছেন, 'সবাইকে স্বাধীনতা দিবসের অনেক অনেক শুভেচ্ছা। এই দিন, আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য আরও কঠোর পরিশ্রম করে যেতে এবং একটি বিকশিত ভারত গড়ে তুলতে অনুপ্রাণিত করুক। জয় হিন্দ!' 

লাল কেল্লা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, "আজ, লাল কেল্লা থেকে, আমি সংবিধান প্রণেতাদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাচ্ছি।  যাঁরা দেশকে পথ দেখিয়েছেন এবং দেশকে দিকনির্দেশ দিয়েছেন... আজ আমরা প্রাণপুরুষ ডঃ শ্যামা প্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫ তম জন্মবার্ষিকীও উদযাপন করছি। ডঃ শ্যামা প্রসাদ মুখোপাধ্যায় ছিলেন দেশের প্রথম মহাপুরুষ যিনি ভারতের সংবিধানের জন্য আত্মত্যাগ করেছিলেন। সংবিধানের জন্য আত্মত্যাগ। যখন আমরা ৩৭০ ধারার প্রাচীর ভেঙে এক দেশ, এক সংবিধানের মন্ত্রকে জীবন্ত করে তুলেছিলাম, তখন আমরা  ডঃ শ্যামা প্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের প্রতি সত্যিকারের শ্রদ্ধাঞ্জলি জানিয়েছিলাম। আজ লাল কেল্লায় অনেক বিশেষ গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত আছেন। দূর-দূরান্তের গ্রাম থেকে পঞ্চায়েতের সদস্য, ড্রোন দিদির প্রতিনিধি, লাখপতি দিদির প্রতিনিধি, ক্রীড়া জগতের বিশিষ্টরা , দেশের প্রতি অবদান রাখা মহান ব্যক্তিরা এখানে উপস্থিত আছেন।  আমি এখানে আমার চোখের সামনে একটি ক্ষুদ্র ভারত দেখতে পাচ্ছি। এবং আজ, লাল কেল্লা প্রযুক্তির মাধ্যমে সারা ভারতের সঙ্গে যুক্ত।"

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে এল পহেলগাঁও প্রসঙ্গ ও পাকিস্তানকে উচিত শিক্ষা দেওয়ার কথা। "  ২২ এপ্রিলের পর, আমরা আমাদের সশস্ত্র বাহিনীকে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছিলাম। তারা কৌশল, লক্ষ্য এবং সময় নির্ধারণ করে। আমাদের বাহিনী এমন কিছু করেছে যা কয়েক দশক ধরে কখনও করা হয়নি। আমরা শত্রুর মাটির  কয়েকশো কিলোমিটার ভিতরে প্রবেশ করেছি এবং সন্ত্রাসবাদের মুখ্য ঘাঁটি  ধ্বংস করে দিয়েছি...পাকিস্তানে ধ্বংসযজ্ঞ এতটাই ব্যাপক যে নতুন নতুন প্রকাশ ঘটছে।"