নয়াদিল্লি: দুই পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছিল। শেষ পর্যন্ত শনিবার যুদ্ধবিরতিতে রাজি হল ভারত ও পাকিস্তান। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করেন প্রথম। এর পর, একে একে যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্তে সিলমোহর দেয় ভারত ও পাকিস্তান। তবে আমেরিকা মধ্যস্থতা করলেও, পাকিস্তানের তরফেই ফোন এসেছিল বলে জানাল ভারত। (India-Pakistan Ceasefire)
শনিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ভারত ও পাকিস্তান যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে বলে প্রথম জানান ট্রাম্প। এর পর ভারতের তরফে বিদেশমন্ত্রকের সচিব বিক্রম মিশ্রি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন। তিনি বলেন, "পাকিস্তানেক ডিরেক্টর্স জেনারেল অফ মিলিটারি অপারেশন্স আজ দুপুর ৩টে বেজে ৩৫ মিনিটে ভারতের DGMO-কে ফোন করেন। দুই পক্ষই এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, জলে, স্থলে আকাশে গোলাগুলি এবং সামরিক পদক্ষেপ বন্ধ হবে আজ বিকেল ৫টা থেকে। সেই মতো দুই তরফেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। DGMO-রা ১২ মে দুপুর ১২টায় আলোচনায় বসবেন।" (Donald Trump)
সংঘাত থেকে সরে এসে ভারত ও পাকিস্তান যে আলোচনার পথে হাঁটতে রাজি হয়েছে, তা আগেই জানিয়ে দেন আমেরিকার বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও। তিনি লেখেন, 'গত ৪৮ ঘণ্টা ধরে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং আমি ভারত ও পাকিস্তানের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করছিলান। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির, ভারতের জাতীয় উপদেষ্টা অজিত ডোভাল, আসিম মালিকের সঙ্গে কথা হয়। অবিলম্বে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে ভারত ও পাকিস্তান। নিরপেক্ষ স্থানে আলোচনাতেও সম্মতি হয়েছে তারা। প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং প্রধানমন্ত্রী শরিফ বুদ্ধিমত্তা ও দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছেন, শান্তির পথ বেছে নিয়েছেন'।
গত ২২ জানুয়ারি কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় নিরীহ পর্যটকদের হত্যা করে জঙ্গিরা। উপত্যকার জঙ্গি সংগঠন The Resistance Front হামলার দায় স্বীকার করে। উপত্যকার জঙ্গি সংগঠন হলেও, পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার ছায়া সংগঠন TRF. এর পর গত ৬-৭ এপ্রিল গভীর রাতে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে সেনা অভিযান চালায় ভারতের সেনা, নৌসেনা এবং বায়ুসেনা। সেখানে লস্কর, জইশ-ই-মহম্মদ, হিজবুল মুজাহিদিনের একের পর এক ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ভারত পরিষ্কার জানিয়ে দেয়, পাকিস্তানের সামরিক এবং নাগরিক পরিকাঠামোয় আঘাত হানা হয়নি। শুধুমাত্র জঙ্গিঘাঁটিগুলিকেই নিশানা করা হয়। পাকিস্তান আঘাত না করলে, ভারতও সেদিকে এগোবে না।
কিন্তু এর পর থেকে রাতের অন্ধকারে বার বার ভারতের আকাশে হানা দিতে শুরু করে পাকিস্তান। ভারতের তরফেও পাল্টা জবাব দেওয়া হয় তাদের। দুই পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্রের মধ্যে এমন সংঘাতে অশনি সঙ্কেত দেখতে পায় আমেরিকা-সহ তাবড় দেশ। দু'পক্ষকেই সংঘাত কাটিয়ে আলোচনার মাধ্য়মে সমস্যার সমাধান করতে আর্জি জানানো হয়। শেষ পর্যন্ত আমেরিকার তরফেই বিষয়টিতে মধ্যস্থতা করা হয়। রাতভর সেই নিয়ে আলোচনার পর, দুপুরেই দু'পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়। আগামী দিনে আলোচনাতেও বসবে দুই দেশ। তবে ভারত পরিষ্কার জানিয়েছে, আগামী দিনে পাকিস্তান যদি উস্কানি জোগায়, তাহলে ফের মুখের মতো জবাব দেওয়া হবে।