নয়াদিল্লি: ভারত-পাক সংঘর্ষবিরতির মধ্যেই অমৃতসর সীমান্তে চাঞ্চল্যকর ছবি। অমৃতসর সীমান্তে উদ্ধার প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র। মিলেছে আড়াই কেজির উপর উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক। উদ্ধার হয়েছে হ্যান্ড গ্রেনেড, পিস্তল, ম্যাগাজিন, ডিটোনেটর, সীমান্তের ওপার থেকে ড্রোনে করে নিয়ে এসে ফেলা হতে পারে বলে সন্দেহ। সীমান্তে উত্তেজনার মধ্যেই বড়সড় নাশকতার ছক বানচাল। BSF ও পাঞ্জাব পুলিশের তৎপরতায় উদ্ধার বিপুল অস্ত্র।

আরও পড়ুন, সংঘর্ষ বিরতি ঘোষণা করার ডোনাল্ড ট্রাম্প কে? কেন নাক গলাবে কোনও তৃতীয় পক্ষ? প্রশ্ন বিরোধীদের ; 'অভাবটা হচ্ছে ইন্দিরা গান্ধীর মতো নেত্রীর..' !

সংঘর্ষবিরতি সমঝোতার, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সীমান্তে লাগাতার হামলা চালাল পাক-বাহিনী। এটা পরিষ্কার সমঝোতা ভঙ্গ, ব্যবস্থা নিক ইসলামাবাদ- কড়া বার্তা দিল ভারত। যে কোনও পরিস্থিতিতে জবাব দেওয়ার জন্য তৈরি আছে সেনা। হুঁশিয়ারি বিদেশমন্ত্রকের। অন্যদিকে, পাকিস্তানকে খোলাখুলি সমর্থন চিনের। সার্বভৌমত্ব রক্ষায় পাশে থাকার বার্তা।বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রী বলেন, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বারবার সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘন করেছে পাকিস্তান। এটা পরিষ্কার সমঝোতা ভঙ্গ।শুধরে যাওয়ার পাত্র তারা নয়।ফের প্রমাণ করে দিল পাকিস্তান। ৩ ঘণ্টার মধ্যেই সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘন করল ইসলামাবাদ।  রাত তখন আটটা পনেরো। সংঘর্ষবিরতি ঘোষণার পর ফের ঝলমলিয়ে উঠেছে শ্রীনগর। উইকএন্ডের রাতে আলোয় উজ্জ্বল ডাল লেক। এবিপি আনন্দে লাইভ টেলিকাস্টের মধ্যেই ফের আকাশে দেখা গেল কয়েকটা লাল বিন্দু। সঙ্গে বিস্ফোরণের শব্দ। মুহূর্তের মধ্যে বদলে গেল শ্রীনগরের ছবি। ঝলমলে শহর ডুবে গেল অন্ধকারে। জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, এইমাত্র সংঘর্ষবিরতির কী হল? শ্রীনগর জুড়ে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে! কোনও অস্ত্রবিরতি হয়নি। শ্রীনগরের এয়ার ডিফেন্স ইউনিটগুলি আবার চালু হয়েছে।

যদিও সেনা সূত্রে পরে দাবি করা হয়, শ্রীনগরে কোনও বিস্ফোরণ হয়নি। সেনা সূত্রে খবর, আন্তর্জাতিক সীমান্ত বরারবর ১১ জায়গায় সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘন করে পাকিস্তান।৯টি শহরের আকাশে দেখা যায় পাক ড্রোন।জম্মু, শ্রীনগর, বারমেড়, আরএসপুরা সেক্টর, অমৃতসর, ভাতিন্দা, পাঠানকোট, কচ্ছ ফের শুরু হয় সেনা তৎপরতা, বিভিন্ন সীমান্ত-শহরে করা হয় ব্ল্যাকআউট। গুজরাতের কচ্ছের আকাশেও দেখা যায় পাক ড্রোন। আলো নিভিয়ে দেওয়া হয় অমৃতসরের গোল্ডেন টেম্পলের। বন্ধ হয়ে যায় দোকানপাট।ভারতীয় সেনার যোগ্য জবাব পেয়ে ফের পিছু হঠে পাকিস্তান।গুলি করে নামানো হয় সব ড্রোন। বন্ধ হয় গোলাগুলি। 

পরিস্থিতি নিয়ে গভীর রাতে সাংবাদিক বৈঠক করে পাকিস্তানকে কড়া বার্তা দেয় বিদেশমন্ত্রক।বিদেশ সচিব  বিক্রম মিস্রি বলেন,অত্যন্ত নিন্দনীয়, ঘটনার জন্য দায়ী পাকিস্তান। পাকিস্তান পরিস্থিতি বুঝুক এবং দায়িত্বেরের সঙ্গে ব্যবস্থা নিক। যে কোনও রকম পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কেন সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘল করল পাকিস্তান? নেপথ্যে কি নতুন কোনও ছক? এরই মধ্যে পাকিস্তানের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছে চিন। পাক বিদেশমন্ত্রী ইশাক দারকে ফোন করে চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই জানান, সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রাখার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের পাশে দাঁড়াবে চিন।