নয়াদিল্লি : আমেরিকার মধ্যস্থতা করার দাবি নস্যাৎ। ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষবিরতির কথা আগ বাড়িয়ে আগেই ঘোষণা করে দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যা ভাল ভাবে নেয়নি ভারত। তাই ভারতের তরফে আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, পাকিস্তানের তরফ থেকে শুরু করা ডিরেক্টর জেনারেল অফ মিলিটারি অপারেশনস (ডিজিএমও) পর্যায়ের আলোচনার মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিকভাবে এই লক্ষ্য অর্জন করা হয়েছে। সে কথাই আজ স্পষ্ট ভাষায় জাতির উদ্দেশে ভাষণে জানিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

তাঁর কথায়, "১০ মে দুপুরে পাকিস্তান সেনা আমাদের DGMO-র সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। ততক্ষণে আমরা ওদের জঙ্গিঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছি। পাকিস্তান যখন বলল যে এরপর থেকে আরও কোনও জঙ্গি কার্যকলাপ বা সেনা দুঃসাহস দেখাবে না, তখন ভারতও বিষয়টি বিবেচনা করে দেখব বলে জানায়।"

ক্রোনোলজি...

বিকেল ৫.৩৩-এ প্রথম সংঘর্ষ বিরতি নিয়ে এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ঠিক চার মিনিট পর ৫.৩৭-এ সংঘর্ষ বিরতির কথা জানান মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও। এর ঠিক এক মিনিট পরই পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী ইশাক দার এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে বলেন, পাকিস্তান ও ভারত সংঘর্ষ বিরতিতে সহমত হয়েছে। বিকেল ৫ টা ৫৫-য় পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘর্ষ বিরতির ঘোষণা করেন বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রী।  এরপর প্রায় আধঘণ্টা পর, সন্ধে ৬টা ১০-এ সংঘর্ষ বিরতির কথা পোস্ট করে জানান ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। 

দুই দেশ সরকারিভাবে কিছু ঘোষণা করার আগেই আগ বাড়িয়ে ট্রাম্প এনিয়ে ঘোষণা করে দেওয়াকে ভালভাবে নেয়নি ভারতের রাজনৈতিক মহল। এনিয়ে রাজনৈতিক নানা জলঘোলাও শুরু হয়। এদিন প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে এই ইস্যুতে বলেন, "ভারতের আক্রমণাত্মক প্রত্যাঘাতের পরে বাঁচার রাস্তা খুঁজছিল পাকিস্তান। গোটা বিশ্বের কাছে কাকুতি-মিনতি করছিল। বেদম মার খাওয়ার পর, পাকিস্তান সেনা ১০ মে দুপুরে আমাদের DGMO-র সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ততক্ষণে আমরা বৃহৎ আকার জঙ্গিঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছি এবং জঙ্গিদের মেরে ফেলা হয়েছে। তাই, পাকিস্তান যখন বলে যে আর কখনও সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ তাদের তরফ থেকে হবে না, তাদের সেনারা দুঃসাহস দেখাবে না, তখন ভারত বিচার-বিবেচনা করে।"