নয়াদিল্লি: ভারত ও নেপালের মধ্যে সীমান্ত-সংক্রান্ত সমস্যা মেটাতে ব্রিটেন ও চিনের পরামর্শের প্রসঙ্গ তুলতেই নেপালকে স্পষ্ট বার্তা দিল ভারত। সম্প্রতি নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ ভারত ও নেপালের সীমান্ত নিয়ে দ্বিধা নিরসন বিষয়ে চিন ও ব্রিটেনকেও যুক্ত করতে চান। তারপরই ভারত মঙ্গলবার দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, ভারত ও নেপাল সীমান্ত সমস্যার সব দিক সামলানোর জন্য ইতিমধ্যেই দ্বিপাক্ষিক ব্যবস্থা রয়েছে এবং ভারত-নেপাল সীমান্তের প্রায় ৯৮ শতাংশ চিহ্নিত করা হয়েছে। তাই এই নিয়ে অন্য কোনও দেশকে নাক গলাতে দেবে না ভারত। জয়সওয়াল স্পষ্ট করে দেন, "সীমান্ত সংক্রান্ত সকল বিষয় সামলানোর জন্য আমরা দ্বিপাক্ষিক ব্যবস্থা তৈরি করেছি। সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে এটা স্পষ্ট থাকা উচিত যে, ভারত ও নেপালের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে কোনও তৃতীয় পক্ষের ভূমিকা নেই"। সম্প্রতি বলেন্দ্র শাহ রবিবার নেপালের সংসদে বলেন, সীমান্ত বিরোধ নিয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনার পাশাপাশি নেপাল চিন ও ব্রিটেনের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছে। তিনি বলেন, "যেহেতু এই সমস্যাটি ব্রিটিশ ভারত এই অঞ্চল ছেড়ে যাওয়ার সময়কার, তাই আমাদের মতে এই বিষয়ে ইংল্যান্ডের হস্তক্ষেপ করা উচিত"।
ভারতের জবাব
ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, "ভারত-নেপাল সীমান্তের প্রায় ৯৮ শতাংশ চিহ্নিত করা হলেও, কিছু অংশ এখনও অমীমাংসিত রয়েছে। গন্ডক নদীর গতিপথ পরিবর্তনের ফলেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে"। এছাড়াও জয়সওয়াল বলেন, এছাড়া ভারত নেপাল সীমান্তের কিছু অংশে আন্তঃসীমান্ত দখল এবং নো-ম্যান'স ল্যান্ডে অনধিকার প্রবেশের ঘটনাও রয়েছে। সে কথা অবশ্য বকলমে মেনে নিয়েছে নেপানও।
ভারত ও নেপালের মধ্যে সীমান্ত নিয়ে বিতর্ক কোন কোন জায়গা নিয়ে ?
ভারত ও নেপালের মধ্যে সীমান্তের যে যে এলাকাগুলি নিয়ে বিরোধ তা হল, কালাপানি, লিপুলেখ এবং লিম্পিয়াধুরা অঞ্চলকে ঘিরে। নেপালের দাবি, এই এলাকাগুলি তাদের ভূখণ্ডের অংশ। অন্যদিকে ভারতের মতে, অঞ্চলগুলি উত্তরাখণ্ড রাজ্যের অন্তর্গত।
কৈলাস মানস সরোবর যাত্রাপথ নিয়ে নেপালের অবস্থান ও বিতর্কের সূত্রপাত
ভারত লিপুলেখ গিরিপথের ওপর নেপাল ভূখণ্ডগত দাবি জানায়। লিপুলেখর রুট ব্যবহার করে কৈলাস মানসরোবর যাত্রার পথ নিয়ে আপত্তিও জানায়। এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে ভারত। এই একতরফা কৃত্রিম সম্প্রসারণকে "অসমর্থনযোগ্য" বলে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। দিল্লির তরফে জানানো হয়, এ নিয়ে ভারতের অবস্থানও বরাবরই স্পষ্ট। ১৯৫৪ সাল থেকে লিপুলেখ দিয়ে কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রা হয়ে থাকে। এটা নতুন কোনও বিষয় নয়। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, এই বিষয়ে ভারতের অবস্থান বরাবরই সুসংগত ও সুস্পষ্ট। তিনি বলেন, ১৯৫৪ সাল থেকে লিপুলেখ গিরিপথ কৈলাস মানসরোবর যাত্রার একটি দীর্ঘস্থায়ী পথ এবং এই পথে যাত্রা কয়েক দশক ধরে চলে আসছে। এটি কোনো নতুন ঘটনা নয়। জয়সওয়াল আরও বলেন যে, ভূখণ্ডগত দাবির বিষয়ে ভারত বরাবরই বলে আসছে, নেপালের এই ধরনের দাবিগুলো ন্যায়সঙ্গত নয় এবং ঐতিহাসিক তথ্য ও প্রমাণের ওপর ভিত্তি করেও প্রতিষ্ঠিত নয়। তিনি আরও বলেন, ভূখণ্ডগত দাবির এই ধরনের একতরফা কৃত্রিম সম্প্রসারণ অগ্রহণযোগ্য।
