কলকাতা: ওয়াকফ হিংসার আগুনে পুড়েছে ঘর। সংশোধিত ওয়াকফ আইনের প্রতিবাদে রণক্ষেত্র হয়ে উঠেছিল মুর্শিদাবাদের নানা প্রান্ত। জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল পুলিশের গাড়ি। ওয়াকফ আন্দোলনে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল সূতি ও সামশেরগঞ্জ। মুর্শিদাবাদের অশান্ত জায়গায় আপাতত মোতায়েন রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ভারতকে বার্তা দিয়ে বলেন, মুর্শিদাবাদে ওয়াকফ অশান্তির ক্ষতিগ্রস্ত সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়কে রক্ষা করুন, যেখানে তিনজন নিহত এবং শত শত আহত হয়েছেন।
এদিকে, বাংলাদেশের মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করে, বিদেশ মন্ত্রকের (MEA) মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, বাংলাদেশ যেন "অযৌক্তিক" মন্তব্য করার পরিবর্তে তার নিজস্ব সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষার দিকে মনোনিবেশ করে। এও বলা হয়, 'পশ্চিমবঙ্গের ঘটনা নিয়ে বাংলাদেশি পক্ষের মন্তব্য আমরা প্রত্যাখ্যান করছি। বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের বিষয়ে ভারতের উদ্বেগের সঙ্গে তুলনা করার জন্য এটি একটি খারাপ প্রচেষ্টা। সেখানে এই ধরনের অপরাধের অপরাধীরা এখনও মুক্তভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে।' তিনি আরও বলেন, ‘অনর্থক মন্তব্য করা এবং বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না এমন অবস্থান প্রকাশ না করে বাংলাদেশের উচিত নিজেদের সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় মনোযোগ দেওয়া।’
উল্লেখ্য, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর গত মাসে সংসদে জানিয়েছিলেন যে রাজনৈতিক অস্থিরতা শুরু হওয়ার পর থেকে ২০২৪ সালে বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর ২,৪০০টি অত্যাচারের ঘটনা ঘটেছে এবং ২০২৫ সালে এখন পর্যন্ত এই সংখ্যা ৭২টিতে দাঁড়িয়েছে।
এরই মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন যে মুর্শিদাবাদে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে। এদিকে মুখ্যমন্ত্রীর আপত্তি উড়িয়েই আজ মালদায় যাচ্ছেন রাজ্যপাল। রাজভবন সূত্রে খবর, সকাল ন'টা নাগাদ শিয়ালদা স্টেশন থেকে জাগিরোড সামার স্পেশালে চেপে মালদার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন তিনি। পৌনে তিনটে নাগাদ নামবেন মালদা টাউন স্টেশনে। মালদায় পৌঁছে ঘরছাড়াদের সঙ্গে কথা বলবেন সিভি আনন্দ বোস। খতিয়ে দেখবেন পরিস্থিতি। গতকালও রাজভবনে মুর্শিদাবাদের ঘরছাড়াদের একাংশের সঙ্গে একান্তে কথা বলেন তিনি।