নয়া দিল্লি: ভারত ও আমেরিকার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া অনেকটাই এগিয়েছে বলে জানালেন মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও। তাঁর বক্তব্য, চুক্তি চূড়ান্ত করার কাজ চলছে এবং দুই দেশ লক্ষ্যের খুব কাছাকাছি। রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের উপর নিষেধাজ্ঞা, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির সরবরাহ এবং দামের প্রভাবও এই আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট।

Continues below advertisement

ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কী বললেন মার্কো রুবিও?

সোমবার, ১৯ অক্টোবর, মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও জানান, ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার চেষ্টা চলছে। তাঁর কথায়, দুই দেশ চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। তবে এখনও চুক্তি সম্পূর্ণ হয়েছে বা কার্যকর হয়েছে, এমন কোনও ঘোষণা করা হয়নি। ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকের আগেই রুবিওর এই মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, মুম্বইয়ে জয়শঙ্করের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হওয়ার কথা। বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পাশাপাশি জ্বালানি সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তি নিয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হতে পারে।

Continues below advertisement

রাশিয়ার তেল কেন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে?ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য আলোচনার পাশাপাশি রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের উপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নিয়েও মুখ খুলেছেন রুবিও। তাঁর বক্তব্য, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির সরবরাহ ও দামের উপর নিষেধাজ্ঞার সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনা করেই ওয়াশিংটনকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

রুবিও জানিয়েছেন, গত কয়েক মাসে বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ ও দামের প্রভাবের কথা মাথায় রেখে নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে ছাড় দিতে হয়েছে আমেরিকাকে। তাঁর মতে, সব দেশের পরিস্থিতি এক নয়। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে কিছু দেশের পক্ষে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করাও কঠিন। তাই জাতীয় নিরাপত্তা ও বিদেশনীতি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় একাধিক বিষয় বিবেচনা করা প্রয়োজন।

চুক্তির প্রথম পর্ব নিয়ে কী জানিয়েছে ভারত?

ভারতের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী এর আগে জানিয়েছিলেন, ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তির প্রথম পর্ব চূড়ান্ত হয়েছে এবং বর্তমানে তার আইনি খসড়া তৈরির কাজ চলছে। তবে প্রতিযোগী দেশগুলির তুলনায় ভারতীয় রফতানিকারীরা যাতে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকেন, তা নিশ্চিত করার উপরও জোর দিয়েছে নয়াদিল্লি।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দুই দেশ অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তির একটি কাঠামো ঘোষণা করেছিল। কিন্তু দীর্ঘ আলোচনা সত্ত্বেও সেই চুক্তি এখনও কার্যকর হয়নি। ফলে চুক্তির শর্ত চূড়ান্ত করা এবং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দুই দেশের পরবর্তী পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।

এবার কোন দিকে এগোবে আলোচনা?

রুবিও ও জয়শঙ্করের আসন্ন বৈঠকে বাণিজ্য, জ্বালানি, বিনিয়োগ ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি উঠে আসতে পারে। বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হলে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও মজবুত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে চুক্তির চূড়ান্ত শর্ত, স্বাক্ষর এবং কার্যকর হওয়ার সময়সীমা সম্পর্কে এখনও স্পষ্ট ঘোষণা আসেনি।