নয়াদিল্লি: অতিমারির সময় চিনা পণ্য বয়কটের ডাক উঠেছিল। সেই চিন এবং প্রতিবেশী দেশগুলিকে নিয়ে এবার বড় সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকারের। বিনিয়োগ টানতে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ নীতি শিথিল করল তারা। এর ফলে, এখন থেকে ভারতের বাজারে সরাসরি ১০ শতাংশ বিনিয়োগ করতে পারবে চিন এবং ভারতের অন্য প্রতিবেশী দেশগুলি। এর জন্য সরকারের অনুমতিও নিতে হবে না তাদের। (Foreign Investment)
মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। ওই বৈঠকে নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ঠিক হয়েছে, ভারতের সঙ্গে ভূমি-সীমান্ত রয়েছে যে দেশগুলির, ভারতে বিনিয়োগ করতে আর বেশি কাঠখড় পোড়াতে হবে না তাদের। তবে সব পড়শি দেশগুলির জন্য নিয়ম শিথিল করা হলেও, মূলত চিন থেকে বিনিয়োগ টানাই কেন্দ্রের লক্ষ্য় বলে মনে করছে শিল্পমহল। (India China Relations)
২০২০ সালের এপ্রিল মাসে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ নীতিতে সংশোধন ঘটায় মোদি সরকার। জানায়, চিন, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভুটান, নেপাল, মায়ানমার, আফগানিস্তানের মতো দেশ, যাদের সঙ্গে ভূমি-সীমান্ত রয়েছে, তারা ভারতে বিনিয়োগ করতে চাইলে সরকারের অনুমোদন বাধ্যতামূলক। এমনকি মালিকানা হস্তান্তর এবং ভবিষ্যৎ বিনিয়োগেও সরকারি অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়। করোনার জেরে আবির্ভূত অতিমারি পরিস্থিতিতে দেশীয় সংস্থাগুলির স্বার্থ মাথায় রেখেই এমন সিদ্ধান্ত বলে জানানো হয় সেই সময়।
কিন্তু মঙ্গলবার সেই নীতি থেকে সরে এল কেন্দ্র। সরকারি অনুমোদন ছাড়াই, ভারতে সরাসরি ১০ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগে ছাড়পত্র দেওয়া হল প্রতিবেশী দেশগুলিকে। কিন্তু হঠাৎ সিদ্ধান্তবদল কেন? কেন্দ্র জানিয়েছে, ভারতে ব্য়বসা কতটা সহজ, তা তুলে ধরাই লক্ষ্য তাদের। পাশাপাশি, বিদেশি বিনিয়োগ বাড়লে দেশের অর্থনীতিও মজবুত হবে, নতুন প্রযুক্তির নাগাল পাবে ভারত, বৈশ্বিক শৃঙ্খলের সঙ্গে একত্রীকরণ ঘটবে দেশীয় সংস্থাগুলির। বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ৬০ দিনের সময়সীমা ধার্য করা হয়েছে।
শুধু তাই নয়, এই সিদ্ধান্তের ফলে চিনের সঙ্গে ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কেরও উন্নতি ঘটবে বলে মনে করা হচ্ছে। ২০২০ সালে গালওয়ান সংঘর্ষকে ঘিরে তিক্ততা চরমে পৌঁছয় দুই দেশের। তবে আমেরিকার শুল্কশাস্তিকে ঘিরে নতুন করে কথাবার্তা শুরু হয় দুই দেশের মধ্যে। দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান পরিষেবা চালু হয় ফের। এই মুহূর্তে চিন ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য সহযোগী দেশ ২০২৪-’২৫ সালে চিন থেকে আমদানি বেড়ে হয় ১১৩.৪৫ বিলিয়ন।
