নয়াদিল্লি : পাকিস্তানের রক্তচাপ বাড়িয়ে এবার রাজস্থান সীমান্তে মহড়ার প্রস্তুতি ভারতের। আগামীকাল পাকিস্তানের সঙ্গে থাকা আন্তর্জাতিক সীমান্ত বরাবর বড়সড় মহড়া দিতে চলেছে ভারতের বায়ুসেনা। এই মর্মে এদিন সন্ধেয় এয়ারমেন-দের তথা বায়ুসেনা কর্মীদের উদ্দেশে জারি হয়েছে বিজ্ঞপ্তি। বুধবার রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ শুরু হবে মহড়া। সাড়ে ৫ ঘণ্টা ধরে তা চলবে। এই সময়ে সীমান্ত ঘেঁষা বিমানবন্দরে বিমানের ওঠা-নামা নিষেধ করা হয়েছে। রাফাল, মিরাজ ২০০০ ও সুখোই-৩০-সহ প্রথম সারির সব যুদ্ধবিমান থাকবে মহড়ায়।

সীমান্তে পাক উস্কানি অব্যাহত। পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসবাদী হামলার পর এই নিয়ে টানা ১২ দিন সংঘর্ষবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করল পাকিস্তান। পরপর ৩ দিন নিয়ন্ত্রণরেখার ওপার থেকে কাশ্মীর উপত্যকার ৮টি জায়গা--কুপওয়াড়া, বারামুলা, পুঞ্চ, রাজৌরি, মেন্ধর, নৌসেরা, সুন্দরবনি, আখনুর সেক্টর লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ছে পাক সেনা। গতকালও একই ঘটনা ঘটে। পাল্টা জবাব দেয় ভারতীয় সেনাবাহিনী। ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় ২৬ জনের মৃত্যুর পর প্রত্যাঘাত হানতে তৈরি ভারত। এই পরিস্থিতিতে জোরদার প্রস্তুতি চলছে।

ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের আবহে গতকালই পাঞ্জাবের ফিরোজপুর সেনা ছাউনিতে আধ ঘণ্টা ধরে ব্ল্যাকআউটের মহড়া দেয় ভারতীয় সেনা। ফিরোজপুর ক্যান্টনমেন্ট থানার তরফে জানানো হয়, রাত ৯টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত সম্পূর্ণ অন্ধকার করে রাখা হয় গোটা এলাকা। স্থানীয়দেরও আগাম জানানো হয়েছিল। এভাবেই পাঞ্জাবের ফিরোজপুর ছাউনিতে আধ ঘণ্টার জন্য ব্ল্যাকআউটের মহড়া দেয় ভারতীয় সেনা। সতর্ক ছিল পুলিশ। ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় প্রতিটি রাস্তার মোড়ে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। 

দেশজুড়ে জোরালো হচ্ছে বদলার দাবি। কল্পনাতীত সাজা দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আর এরইমধ্য়ে, রাজস্থানের মরুভূমিতে বারবার মহড়া ভারতীয় সেনার। এর আগে থর মরুভূমির বুকে একের পর এক সেনা ট্য়াঙ্ক দেখা যায়। ক্রমাগত গোলাবর্ষণ। ২৫ জন হিন্দু পর্যটকের রক্তে লাল হয়েছে পহেলগাঁওয়ের সবুজ বাগিচা। গোটা দেশের একটাই দাবি, বদলা চাই। নরেন্দ্র মোদি প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন ! বলেছেন, "শাস্তি পাবে। শাস্তি হবেই হবে। এবার সন্ত্রাসবাদীদের বেঁচে থাকা জমিটুকুও মাটিতে মিশিয়ে দেওয়ার সময় এসেছে।" এরপরই সামনে আসে সপ্তশক্তির মহড়ার দৃশ্য়। প্রচণ্ড উত্তাপের মধ্য়ে রাজস্থানের থর মরুভূমিতে সেনাবাহিনীর মহড়া দেখা যায়। ট্য়াঙ্ক থেকে ক্রমাগত গোলাবর্ষণ, মর্টার শেলের গগণভেদী আওয়াজ, সাঁজোয়া গাড়ির বহর। শত্রু এলাকায় ঢুকে ঘাঁটি ধ্বংস করতে প্রস্তুত !