নয়াদিল্লি: ব্যাহত ইন্ডিগোর বিমান পরিষেবা, চূড়ান্ত ভোগান্তির শিকার যাত্রীরা। একের পর এক বিমান বাতিল হচ্ছে, বহু উড়ান বিলম্বে চলছে। অভিযোগ, পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে টিকিটের দাম বাড়াচ্ছে অন্য়ান্য় বিমান সংস্থাগুলি। দিল্লি বা মুম্বইয়ের টিকিট কিনতে গেলে ৫০ থেকে ৬০ হাজার গুনতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ।

Continues below advertisement

আরও পড়ুন, প্রথমে ২ হাজার ২০৮, কমিশনের কড়া ডোজ, ৪দিনেই মৃত্যুহীন বুথ নামল ৭টিতে !

Continues below advertisement

দ্য ট্রাভেল এজেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া, পূর্বাঞ্চলের চেয়ারম্যান অনিল পাঞ্জাবি বলেন, কলকাতা থেকে মুম্বই, দিল্লি, বেঙ্গালুরু এবং হায়দরাবাদের মতো শহরগুলিতেও বিমানভাড়া দ্বিগুনের বেশি এবং কখনও কখনও তা গিয়ে বিকোচ্ছে স্বাভাবিকের থেকে তিনগুণেরও বেশি দামে ! টিকিটের এই মূল্যবৃদ্ধির জেরে অনেক গ্রাহকই ভ্রমণের পরিকল্পনা পিছিয়ে দিচ্ছেন। 

 উড়ান সংস্থা সূত্রে খবর, বুধবার থেকে গত ৩ দিনে গোটা দেশে বাতিল হয়েছে ইন্ডিগোর ৫৫০টি-রও বেশি ফ্লাইট।আর পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ঝোপ বুঝে কোপ মারছে অন্য়ান্য় বিমান সংস্থাগুলি। টিকিটের দাম বাড়তে থাকে হু হু করে। কলকাতা থেকে ভুবনেশ্বর বিমান ভাড়া দাঁড়ায় ৩৬ থেকে ৪০ হাজার টাকা ,কলকাতা থেকে দিল্লি ৩৬ হাজার, কলকাতা থেকে চেন্নাই ৩৫ হাজার টাকা। কলকাতা মুম্বই ৩০ হাজার। কলকাতা হায়দরাবাদ উড়ানের ভাড়া দাঁড়ায় ৩০ হাজার টাকা। বিমান বাতিলের চরম দুর্ভোগের মধ্যে নতুন করে টিকিট কাটতে গিয়েও হয়রান হতে হয় সাধারণ মানুষকে। 

কলকাতার এক ব্যবসায়ী, যার মায়ের অস্ত্রোপচার হচ্ছে হায়দরাবাদে, তিনিও পড়েছেন সমস্যায়। চারদিন আগে ইন্ডিগোর উড়ান বুক করেছেন সাড়ে সাতহাজার টাকায়। উড়ান ছিল বৃহস্পতিবার রাত ৮টায়। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত শুক্রবার ভোরে তা স্থগিত হয়ে যায়। তিনি ফের একটি টিকিট কিনেছেন। অন্য একটি বিমান সংস্থার। যার দাম ২৬ হাজার টাকা ! টিএএআই-র চেয়ারম্যান অঞ্জানি ধানুকা  উড়ান সংস্থাগুলিকেই দায়ী করেছেন। বর্তমান পরিস্থিতি যেমনই হোক না কেন, ঠিক এমনই বিশৃঙ্খলার আবহেই ভাড়া বৃদ্ধি করা হয় বলে অভিযোগ জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি যাত্রীদের ভোগান্তির কথা ভেবে, তিনি এর সমাধানের জন্য হস্তক্ষেপের দাবি তুলেছেন।

গোটা দেশের ছবিটা আরও মারাত্মক!দেশজুড়ে বাতিল  ইন্ডিগোর একের পর এক বিমান। এর আগে বুধবারও ইন্ডিগোর ২০০-রও বেশি উড়ান বাতিল হয়।আর নভেম্বর জুড়ে এক হাজারেরও বেশি উড়ান বাতিল করেছে ইন্ডিগো।ফলে চূড়ান্ত হয়রানির শিকার যাত্রীরা। কিন্তু, এমন পরিস্থিতি কেন? ইন্ডিগোর তরফে জানানো হয়েছে, প্রযুক্তিগত ত্রুটি, শীতকালীন সময়সূচি পরিবর্তন, প্রতিকূল আবহাওয়া, বিমান ব্যবস্থায় ক্রমবর্ধমান যানজট এবং বিমানকর্মীদের কাজের সংশোধিত সময়সূচি— এমন নানা অপ্রত্যাশিত কারণে আমাদের পরিষেবার উপর এমন নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।’’