কলকাতা: বিয়ের বয়স মাত্র ৭ দিন। মধুচন্দ্রিমায় স্বর্গরাজ্য কাশ্মীরে (Kashmir News) গিয়েছিলেন দম্পতি। ভারতীয় নেভিতে কর্মরত বিনয় নারওয়াল ও তাঁর স্ত্রী। যাওয়ার কথা অবশ্য ছিল ইউরোপ। কিন্তু শেষ মুহূর্তে পাসপোর্ট বিভ্রাট হওয়াতেই মধুচন্দ্রিমার গন্তব্য় বদলে গিয়েছিল ইউরোপ থেকে কাশ্মীরে। যদি এই বিভ্রাট না হত, যদি তাঁদের মধুচন্দ্রিমার গন্তব্যস্থল ইউরোপই হত, তাহলে হয়তো খবরের শিরোনামে আসতেন না তিনি। তাহলে হয়তো তাঁর মৃতদেহের পাশে স্ত্রীর নিথর হয়ে বসে থাকার ছবিটা দেখে শিরদাঁড়া দিয়ে হিমেল স্রোত বয়ে যেত না দেশবাসীর। বিয়ের সাত দিনের মাথায় বিধবা স্ত্রীর স্বামীর কফিন আঁকড়ে কান্নায় ভেঙে পড়ার ছবি দেখে চোখের জল মুছতে হত না দেশবাসীকে।  আর বিনয় নারওয়ালের (Vinay Narwal) বাবার ছেলের শেষকৃত্য করার ছবি দেখে ক্ষোভে, দুঃখে ফেটে পড়তে হত না। 

পহেলগাঁও-এর জঙ্গি হামলায় যে ২৬টি প্রাণ অকালে ঝরে গিয়েছে, তাঁদের মধ্যে একজন ছিলেন বিনয় নারওয়াল। বিনয় তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে মধুচন্দ্রিমায় গিয়েছিলেন কাশ্মীর। আর হামলার সময় উপস্থিত ছিলেন ওই অভিশপ্ত বৈসরণ ভ্যালিতে। স্ত্রীকে নিয়ে যখন ভেলপুরী খাচ্ছিলেন বিনয়, তখনই কিছু বুঝে ওঠার আগে তাঁর দিকে ধেয়ে আসে দুই জঙ্গি। জেনে নেয় নাম, পরিচয়। তারপরে মুসলমান নয়, তা নিশ্চিত হতেই চলে গুলি। মাটিতে লুটিয়ে পড়েন রক্তাক্ত বিনয়। স্ত্রী কিছু বুঝে ওঠার আগেই শেষ হয়ে যায় সবটা। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর স্ত্রীর একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সেখানে তিনি বিভ্রান্তের মতো বলছেন, 'আমরা দাঁড়িয়ে ভেলপুরী খাচ্ছিলাম... ওরা মেরে দিল.. মেরে দিল..'

হামলার পরে, ,ময়না তদন্তের পরে যখন বিনয়ের দেহ ফিরল তাঁর বাড়ি, সেই তেরঙ্গা মোড়া কফিনের ওপর পড়ে ডুকরে কেঁদে উঠেছিলেন তাঁর সদ্য বিবাহিত স্ত্রী। তারপরে নিজেকে সামলে নিয়ে, ধনুকের ছিলার মতো সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে 'জয় হিন্দ' ধ্বনি তুলেছিলেন। বলেছিলেন, 'আমরা তোমায় নিয়ে গর্বিত। তোমায় চিরকাল গর্ব করাব।' এই দৃশ্য দেখে চোখ ভেজেনি এমন ভারতীয় বোধহয় নেই। তবে সোশ্য়াল মিডিয়ার যুগে এমনভাবে সামনে আসছে একের পর এক ভিডিও, ভারতবাসী আর নিজেকে সামলে নেওয়ার সময় পাচ্ছে কই? 

সোশ্যাল মিডিয়ায় আজ ভাইরাল হয়েছে একটি ভিডিও। সেখানে দেখা যাচ্ছে, হরিদ্বারের 'হর কি পৌরি' ঘাটে শেষকৃত্য করছেন বিনয় নারওয়ালের বাবা। ছেলের অস্থি গঙ্গায় ভাসিয়ে দিয়ে ঝরঝর করে কেঁদে ফেলছেন প্রৌঢ়। তাঁদে ধরে রাখা যাচ্ছে না। এ যেন শেষবারের মতো ছেলেকে ছুঁয়ে দেখা.. তাঁকে শেষবারের মতো বিদায় জানানো..

গোটা দেশের এই ছবি দেখে চোখ ছলছল করেছে, আর ফের একবার বুকের মধ্যে থেকে কেউ যেন বলে উঠেছে, এই চোখের জলের যোগ্য জবাব দিতে পারবে তো ভারত?