নয়াদিল্লি : জাতীয় স্বার্থে প্রস্তুত ভারতের নৌবাহিনী। এদিন একাধিক জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হল সফলভাবে। মাঝ সমুদ্রে যুদ্ধজাহাজ থেকে ব্রহ্মস অ্যান্টি-শিপ এবং অ্যান্টি-সারফেস ক্রুজ মিসাইল নিক্ষেপের একাধিক দৃশ্য সোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছে নৌবাহিনী। এই যুদ্ধজাহাজগুলির মধ্যে ছিল কলকাতা-ক্লাস ডেস্ট্রয়ার, নীলগিরি এবং ক্রিভাক-ক্লাস ফ্রিগেট। আরব সাগরে ব্রহ্মস-এর গর্জন শোনা গেল। এককথায়, পহেলগাঁও হামলার পর পাকিস্তানকে কড়া জবাব দিতে তৈরি ভারত। আরব সাগরে এভাবেই শক্তি প্রদর্শন করল ভারতীয় নৌ-সেনা।

 

পহেলগাঁও হামলার পর ক্ষোভে ফুঁসছে ভারত। পাকিস্তানকে কড়া জবাব দেওয়া হোক, চাইছে গোটা দেশ। এই আবহে প্রত্যাঘাতের প্রস্তুতি চলছে জোরকদমে। একের পর এক মহড়ার ছবি সামনে আনছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। এবার আরব সাগরে শোনা গেল ক্ষেপণাস্ত্র ব্রহ্মস-এর গর্জন। 

এর আগে প্রধানমন্ত্রীর বার্তার পরপরই রাজস্থানের পাকিস্তান সীমান্তে ভারতের রণসজ্জা দেখা গেছে। থর মরুভূমির বুকে সাঁজোয়া গাড়ি নিয়ে চলে যুদ্ধের মহড়া। প্যারা-এসএফ কম্যান্ডোর সঙ্গে ট্যাঙ্ক ও স্পেশাল আর্মড ভেহিক্যালসের ব্যবহার করা হয়। সূত্রের খবর, মূলত শত্রুদের দখলে থাকা এলাকা কব্জা করতেই এই ধরনের ট্যাঙ্ক ব্যবহার করা হয়। পহেলগাঁও হামলার পর মিশন রেডি ভিডিও পোস্ট করে ভারতীয় সেনাবাহিনী। অকুতোভয়, অবিশ্রান্ত, অপ্রতিরোধ্য, বিনা যুদ্ধে জমি ছাড়তে নারাজ, সীমাহীন লক্ষ্যে স্থির, সর্বদা প্রস্তুত। ছবির সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়  ক্যাপশন। 

পহেলগাঁও হামলার পর কাশ্মীরে সন্ত্রাসদমন অভিযান জোরদার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। চলছে তল্লাশি। বিভিন্ন জায়গায় সেনা-জঙ্গি এনকাউন্টারও চলছে। পহেলগাঁও নাশকতার লিঙ্কম্যান সন্দেহে ১৪ জন জঙ্গির তালিকা প্রকাশ করেছে গোয়েন্দা সংস্থা। সূত্রের দাবি, এদের বেশিরভাগই পাক অধিকৃত কাশ্মীর লাগোয়া জেলাগুলিতে হিজবুল, জইশ, লস্করের মতো জঙ্গি সংগঠনের কমান্ডার হিসেবে কাজ করে। বৈসারন ভ্যালিতে বেছে বেছে হিন্দু-নিধনের পর জঙ্গিদের খোঁজে পহেলগাঁওয়ের জঙ্গলে চিরুনি তল্লাশি চালাচ্ছে ভারতীয় সেনা, CRPF ও জম্মু কাশ্মীর পুলিশ। ২৬ জনের মৃত্যু ও ১৭ জন আহত হওয়ার পর পহেলগাঁওয়ে জারি হয়েছে লাল সতর্কতা। এদিকে পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার ঘটনায় তদন্তভার নিয়েছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা NIA।