নয়াদিল্লি: সরকার বিরোধী আন্দোলনে অন্তত পক্ষে ৫০০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে মেনে নিল ইরান। মৃতদের মধ্যে ৫০০ নিরাপত্তা কর্মীও রয়েছেন বলে জানা গেল। আন্দোলনকারীদের ‘সন্ত্রাসবাসী’, ‘সশস্ত্র দাঙ্গাকারী’ বলে উল্লেখ করেছে তেহরান। আন্দোলনের নামে নিরীহ মানুষকে নিশানা করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ। (Iran Protests Death Toll)
প্রায় এক মাস ধরে চলে আসা প্রতিবাদ, বিক্ষোভে ইরানে হাজার হাজার মানুষ মারা গিয়েছেন, আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের সরকার আন্দোলনকারীদের উপর দমন-পীড়ন নীতি চালাচ্ছে বলে লাগাতার অভিযোগ উঠছিল। সেই আবহেই সরকারের এক আধিকারিক কমপক্ষে ৫০০০ মানুষের কথা মেনে নিয়েছেন। রয়টার্সকে তিনি জানিয়েছেন, সবকিছু যাচাই করেই ওই সংখ্যা মিলেছে এবং আগামী দিনে তাতে তেমন বৃদ্ধি ঘটার সম্ভাবনা নেই। (Iran Death Toll)
অর্থনৈতিক সঙ্কট, মুদ্রাস্ফীতি, জীবনযাপনের খরচ বৃদ্ধি নিয়ে ডিসেম্বর মাসে বিক্ষোভ আছড়ে পড়ে ইরানে। ক্রমে ক্রমে দেশের সর্বত্র সেই বিক্ষোভের আঁচ ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার নামে আন্দোলনকারীদের নির্যাতন করার অভিযোগ ওঠে দেশের পুলিশ এবং নিরাপত্তাবাহিনীর বিরুদ্ধে। হাজার হাজার মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ। কিন্তু এত কিছুর পরও বিক্ষোভ থামানো যায়নি। বরং ক্ষমতার পালাবদলের দাবি উঠছে দেশে, ধর্মীয় শাসনের অবসান চাইছেন সাধারণ মানুষ, খামেনেইয়ের মৃত্যু কামনা করে দেওয়া হচ্ছে স্লোগানও। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এমন ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়নি ইরান।
এমন পরিস্থিতিতে ইরান সরকার যদিও বহির্শক্তিকেই দোষারোপ করছে। দেশের সর্বোচ্চ শাসক খামেনেই সরাসরি আমেরিকা এবং ইজরায়েলের দিকে আঙুল তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, “ইজরায়েল এবং আমেরিকার সঙ্গে সংযোগ রয়েছে যাদের, তারাই প্রভূত ক্ষতি করেছে, কয়েক হাজারকে হত্যা করেছে।” বলেন, “আমরা দেশকে যুদ্ধের মুখে ঠেলে দেব না। কিন্তু দেশের ভিতরে এবং বাইরে থাকা অপরাধীদের শাস্তি বাদ যাবে না।” তবে কয়েক হাজার মানুষ যে মারা গিয়েছন, তা স্বীকারই করেছেন খামেনেই।
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘অপরাধী’ বলে আক্রমণ শানান খামেনেই। তাঁর বক্তব্য, “আগে যত বিক্ষোভ হয়েছে, আমেরিকার কোনও না কোনও ভাবে যুক্ত ছিল। কিন্তু এবার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট খোদ ইরানের বিরুদ্ধে রচিত এই আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।” বিক্ষোভের নামে দেশে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়েছে, ২৫০টির বেশি মসজিদ পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, সংবাদমাধ্যমের দফতরে হামলা চালানো হয়েছে বলেও দাবি করেন খামেনেই।
বিক্ষোভ যখন চরমে, সেই সময় ইরানে হস্তক্ষেপ করার কথা বলতে শোনা গিয়েছিল ট্রাম্পের মুখে। ইরানে ক্ষমতার পালাবদলের ডাকও দেন তিনি। কিন্তু ট্রাম্পের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন আন্দোলনকারীদের অনেকে। কড়া পদক্ষেপের কথা বললেও, আমেরিকা আদতে কিছুই করেনি, বরং তারা নিজের দেশের নাগরিক-আধিকারিকদের ইরান থেকে বের করে নিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে। এর পর, যেভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে পিছু হটেন ট্রাম্প, তা নিয়েও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।