নয়াদিল্লি: আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে শান্তি-বৈঠক ভেস্তে গেল। ঐক্যমত্যে পৌঁছতে পারল না দুই দেশ। রবিবার সকালে বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার ঘোষণা করলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। জানালেন, আমেরিকার শর্ত মানতে রাজি হয়নি ইরান। তাই আমেরিকা ফিরে যাচ্ছেন তাঁরা। যদিও পাকিস্তানের প্রশংসা করেছেন ভ্যান্স। পাকিস্তানের তরফে সব রকমের চেষ্টা হলেও আমেরিকা এবং ইরান সমঝোতায় পৌঁছতে পারেনি বলে জানালেন। (US-Iran Peace Talks)

Continues below advertisement

ইসলামাবাদে শান্তি-বৈঠক ভেস্তে গেল

আমেরিকার প্রতিনিধি হিসেবে ইসলামাবাদ পৌঁছেছিলেন ভ্য়ান্স। দুই দেশের মধ্যে শান্তিস্থাপনে তিনি একেবারে অগ্রভাগে ছিলেন। কিন্তু সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ভ্য়ান্স বললেন, "খারাপ খবর। সমঝোতায় পৌঁছতে পারিনি আমরা। সমঝোতা না হওয়ায় আমেরিকা ফিরে যাচ্ছি আমরা। আমরা সীমা স্পষ্ট জানিয়েছিলাম। ওদের কী কী দিতে পারি, কী দিতে পারব না, জানিয়েছিলাম আমরা। কিন্তু ওরা আমাদের শর্তাবলী মানতে রাজি হয়নি।" (US-Iran Ceasefire)

Continues below advertisement

তবে আমেরিকা এবং ইরান যে সমঝোতায় পৌঁছতে পারেনি, তাতে পাকিস্তানের কোনও ভূমিকা নেই বলেও জানান ভ্যান্স। তিনি বলেন, "সমঝোতায় যে খামতিই থেকে থাকুক না কন, তা পাকিস্তানের জন্য হয়নি। খুব ভাল কাজ করেছে পাকিস্তান। ইরানের সঙ্গে সেতুবন্ধনে, শান্তিচুক্তির জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছিল ওরা। ২১ ঘণ্টা ধরে আলোচনা চলেছে। তবে আশার কথা হল, ইরানের সঙ্গে বেশ কিছু বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে আমাদের।"

ইরানের সঙ্গে সমঝোতা না হওয়ায় আমেরিকার কোনও ক্ষতি নেই বলেও দাবি করেন ভ্যান্স। তাঁর যুক্তি, "খারাপ খবর এটাই যে সমঝোতা হল না। আমার মনে হ, এটা ইরানের জন্য যতটা খারাপ খবর, আমেরিকার জন্য় ততটা নয়। আমরা আমেরিকা ফিরে যাচ্ছি। আমরা সবরকমের চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু ওরা আমাদের শর্তাবলী না মানার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।"

ইরান শর্তাবলী মানতে নারাজ, দাবি ভ্যান্সের

ভ্যান্সের দাবি, বৈঠকে আমেরিকা গোড়া থেকেই নমনীয় ছিল। ইরানকে বেশ কিছু ছাড়ও দেওয়া হচ্ছিল তাঁদের তরফে। কিন্তু ইরান আমেরিকার শর্তাবলী মানতে রাজি হয়নি। একদিন আগে জানা গিয়েছিল, কাতার-সহ বিভিন্ন দেশে বাজেয়াপ্ত করে রাখা ইরানের সম্পদ ছাড়তে রাজি হয়েছে আমেরিকা। সেই নিয়ে প্রশ্ন করলে ভ্য়ান্স বলেন, "বিষয়টি উঠে আসে আলোচনায়। কিন্তু ইরান আমাদের শর্তাবলী মানতেই রাজি হয়নি। আমার মনে হয়, আমরা বেশ নমনীয় ছিলাম। প্রেসিডেন্ট (ডোনাল্ড ট্রাম্প) বলেছিলেন সমঝোতার জন্য চেষ্টা করতে। আমরা চেষ্টা করেছি, কিন্তু সমঝোতা হয়নি।"

কোন চুক্তি মানল না ইরান?

কোন কোন শর্তে আপত্তি জানিয়েছে ইরান, তা নিয়ে বিশদে কিছু খোলসা না করলেও ভ্যান্স বলেন, "বিশদ কিছু বলতে চাই না। ২১ ঘণ্টা ধরে গোপনে বৈঠকের পর প্রকাশ্যে এ নিয়ে আলোচনা চাই না আমি। তবে আমাদের কাছে এই বার্তা আসা দরকার যে ওরা পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে চাইবে না, এমন কিছু চাইবে না, যার মাধ্যমে দ্রুত পরমাণু অস্ত্র তৈরি করা যেতে পারে। আমেরিকার প্রেসিডেন্টের এটাই মূল লক্ষ্য। আমরা সেই চেষ্টাই করছিলাম। ওদের পরমাণু প্রকল্প, পরমাণু কেন্দ্রগুলি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হল, ওরা কি প্রতিশ্রুতি দেবে যে, আজ নয়, দু'বছর পরও নয়, বরং অদূর ভবিষ্যতে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করবে না? তেমন কোনও ইঙ্গিত পেলাম না। আশাকরি ভবিষ্যতে পাব।"

ভ্যান্স জানিয়েছেন, বৈঠক চলাকালীন লাগাতার ট্রাম্পের সঙ্গে কথা হচ্ছিল তাঁদের। যুদ্ধ বিভাগের সচিব পিট হেগসেথ, বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও, অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এবং জাতীয় নিরাপত্তা বিভাগের আধিকারিকদের সঙ্গেও কথা হয়। তাঁদের তরফে সবরকম চেষ্টা চালানো হয়। তাঁরা সেরা প্রস্তাব দেন ইরানকে। তবে আগামী দিনে ইরান তাঁদের প্রস্তাবগুলি নিয়ে ভাবনা-চিন্তা করে কি না, সুর নরম করে কি না, সেদিকেও নজর থাকবে বলে জানিয়েছেন ভ্য়ান্স।