নয়া দিল্লি: ইরানে বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলে ‘কঠোর পদক্ষেপ” নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প বা খামেইনি কেউই নিশ্চিত করেননি যে যুদ্ধ শুরু করবেন বা থামাবেন। আমেরিকা ইরানের দিকে যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছে, কিন্তু ট্রাম্প যুদ্ধের সম্ভাবনা নিশ্চিত করেননি। এই পরিস্থিতিতে যুদ্ধের আশঙ্কা ক্রমশ দানা বাঁধছে।
তবে হামলা চালালে সেটার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলা চালানো হবে বলে প্রতিবেশী দেশগুলেকে সতর্ক করেছে ইরান। তবে, যুদ্ধের দিকে ইঙ্গিত করে এমন কিছু লক্ষণ রয়েছে। দক্ষিণ চিন সাগর থেকে মার্কিন নৌবাহিনীর নৌবহর দ্রুত ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলা চালানোর যে হুমকি ইরান দিয়েছে, সেটির প্রেক্ষিতে 'সতর্কতামূলক ব্যবস্থা' হিসেবেই কাতারের আল উদেইদ সেনা ঘাঁটি থেকে সেনাদের সরিয়ে নিচ্ছে আমেরিকা।
এদিকে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক এক মন্তব্যে ইরানের নাগরিকদের ‘বিক্ষোভ অব্যাহত রাখার’ আহ্বান জানানোর পর ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সতর্ক করে দিয়েছেন যে তার দেশ ‘অশুভ এবং বিদেশি হস্তক্ষেপের’ বিরুদ্ধে আত্মরক্ষা করবে।
ইরান বিক্ষোভকারী ইরফান সোলতানিকে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করার পর ট্রাম্প ইরানে আক্রমণের হুমকি দেন। তিনি সতর্ক করে দেন যে যদি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়, তাহলে গুরুতর পরিণতি হবে। মূলত ১৪ জানুয়ারি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কথা ছিল, কিন্তু তা স্থগিত করা হয়। ট্রাম্প তখন বলেন যে ইরানে মৃত্যুদণ্ড এবং হত্যা উভয়ই বন্ধ করা হচ্ছে।
ইরানে মূল্যবৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন সরাসরি সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই-বিরোধী আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে শুরু হওয়া আন্দোলনে এখন ‘মোল্লাতন্ত্রে পতন হবেই’— এমন স্লোগান শোনা যায়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৩,৫০০-র বেশি মানুষ নিহত এবং ২০,০০০-এর বেশি বিক্ষোভকারী গ্রেফতার হয়েছেন। সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে যে ১৮,১০০ জনেরও বেশি লোককে আটক করা হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার ইরানে হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন, বিশেষ করে নিহতের সংখ্যা বৃদ্ধির খবরের পর। সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইরান আটক বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করলে "খুব কঠোর ব্যবস্থা" নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেন, 'যদি তারা তাদের ফাঁসি দেয়, তাহলে কিছু জিনিস দেখতে পাবেন।'
ইরানের বিচার বিভাগ প্রধান গোলামহোসেইন মোহসেনি-এজেই টেলিভিশনে সম্প্রচারিত মন্তব্যে দ্রুত বিচার এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেন, "আমরা যদি কিছু করতে চাই, তাহলে আমাদের তা দ্রুত করতে হবে," তিনি বলেন, এমন মন্তব্য যা ট্রাম্পের সতর্কবার্তাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করে বলে মনে হচ্ছে।