নয়াদিল্লি: সমর্থকের অভাব ছিল না যেমন, সমালোচকের সংখ্যাও কম ছিল না নেহাত। আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুতেও বিভাজন চোখে পড়ছে ইরানে। একদিকে দলে দলে রাস্তায় নেমে এসেছেন হাজার হাজার মানুষ। অন্য দিকে, আবার উদযাপনের ছবিও চোখে পড়েছে। সেই আবহেই লাল পতাকা ওড়ানো হল জামকারান মসজিদে। ইরানে এই জামকারান মসজিদের বিশেষ ধর্মীয় গুরুত্ব রয়েছে যেমন, তেমন মসজিদের গম্বুজের চূড়ায় লাল পতাকা ওড়ানোও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। (Iran Raises Red Flag)
আয়াতোল্লার মৃত্যুতে জামকারান মসজিদের চূড়ায় লাল পতাকা ওড়ানো হয়েছে, যার মাধ্যমে ন্যায় এবং প্রতিশোধের বার্তা দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, কোম শহরের বুকে জামকারান মসজিদের চূড়ায় যে লাল পতাকা ওড়ানো হয়েছে, তার মাধ্যমে খামেনেই অনুগামীদের ক্রোধ এবং প্রতিশোধস্পৃহাই ফুটে উঠছে। (Ayatollah Ali Khamenei Death)
শিয়া মুসলিমদের মধ্যে লাল পতাকা ওড়ানোর চল রয়েছে। বিশেষ করে কেউ শহিদ হলে, প্রতিশোধ তোলা বাকি রয়েছে বোঝানো হয় ওই রীতির মাধ্যমে। মসজিদের চূড়ায় পতাকা ওড়ানো শুধুমাত্র ধর্মীয় ভাবনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং রাজনৈতিক এবং বৈচারিক ভাবনাও জড়িয়ে গিয়েছে তার সঙ্গে।
শুধুমাত্র ইরানেই নয়, পৃথিবীর সর্বত্র শিয়া মুসলিমদের মধ্যে জামকারান মসজিদ অত্যন্ত পবিত্র বলে গণ্য হয়। সেখানে কী ঘটছে, তার উপর নজর থাকে আন্তর্জাতিক মহলেরও। তাই আয়াতোল্লার মৃত্যুতে গোটা পৃথিবীর নজর যখন ইরানের দিকে, সেই সময় মসজিদের চূড়ায় লাল পতাকা উড়িয়ে ইরান নিজের অবস্থান বুঝিয়ে দিল বলেই মনে করা হচ্ছে।
মসজিদের মাথায় লাল পতাকা ওড়ানো নিয়ে ইরানের তরফে নির্দিষ্ট ভাবে কিছু বলা হয়নি এখনও পর্যন্ত। তবে শনিবার সকালে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল হামলা চালানোর পর, উপসাগরীয় দেশগুলিতে পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে তারাও। বিশেষ করে আমেরিকার ঘাঁটি রয়েছে যেখানে, সেই জায়গাগুলিতেই আঘাত হানা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে পশ্চিম এশিয়ায়। এদিন ওমান উপকূলে একটি তেলের ট্যাঙ্কারেও হামলা চালায় ইরান। ওই জাহাজে ১৫ জন ভারতীয় এবং পাঁচ জন ইরানীয় ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। ওমানের বন্দরেও ড্রোন হামলা করে ইরান। এমন পরিস্থিতিতে ইরানকে আলোচনায় বসার প্রস্তাব দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। প্রতিবেশী দেশগুলি কারও ইরানের সঙ্গে বিরোধ নেই বলে জানিয়েছে তারা।
