নয়াদিল্লি: সরকার বিরোধী আন্দোলনে উত্তাল গোটা দেশ। সেই আবহে এবার আমেরিকার উদ্দেশে কড়া মন্তব্য ইরানের। দেশে যে অশান্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তার জন্য সরাসরি আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলকে দায়ী করল তারা। শুধু তাই নয়, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে হুঁশিয়ারি দিয়েছে, তার পাল্টা জবাবও দিয়েছে ইরান। প্রয়োজনে আমেরিকাকে আঘাত করতে পিছপা হবে না বলে জানিয়েছে তারা। (Iran Unrest Updates)

Continues below advertisement

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বিক্ষোভকারীদের সরাসরি ‘সন্ত্রাসবাদী’ বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, বিক্ষোভের নামে দেশে যে অস্থিরতা তৈরি করা হয়েছে, তার নেপথ্যে বিদেশি শত্রুর হাত রয়েছে। পেজেশকিয়ান বলেন, “কিছু সন্ত্রাসবাদী রয়েছে, যারা বিদেশে প্রশিক্ষণ পেয়েছে। একািক শহরে বাজার জ্বালিয়েছে ওরা, মসজিদে আগুন ধরিয়েছে, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র পুড়িয়ে দিয়েছে। অশান্তিতে আরও উস্কানি জোগাতে চায় শত্রুপক্ষ।। মানুষজন বলছেন, ওরা দেশের লোকই হতে পারে না। এদেশের মানুষরা প্রতিবাদ করলে, অবশ্যই তাঁদের কথা শোনা হবে, সমাধানসূত্র বের করা হবে। ওরা সব জ্বালিয়ে দিচ্ছে, নিরীহদের হত্যা করছে, যা মেনে নেওয়া যায় না।”ইরানকে অশান্ত করে তুলতে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল মদত জোগাচ্ছে বলেও দাবি করেন পেজেশকিয়ান। (Iran Current Situation)

ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান আলি লারিজানির মতে, দেশের অর্থনীতি নিয়ে যে প্রতিবাদ হচ্ছে, যে দাবি জানানো হচ্ছে, তা বৈধ। কিন্তু সেই বৈধ দাবিদাওয়ার সঙ্গে কিছু ধ্বংসাত্মক, সংগঠিত উপাদান মিশে গিয়েছে। তারাই দাঙ্গার পরিস্থিতি তৈরি করেছে দেশে। লারিজানি বলেন, “ওই গোষ্ঠী আন্দোলনকারীদের ব্যবহার করছে, তারা হিংসা ঘটাচ্ছে, অপরাধীর মতো আচরণ করছে। খুন করছে মানুষজনকে, গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, হিংসা ছড়ানো হচ্ছে, জঙ্গি সংগঠন ISIS যেমনটা করে থাকে।”

Continues below advertisement

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাকের কালিবাফ সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আমেরিকাকে। ইরানে যে অশান্তি চলছে, তাতে হস্তক্ষেপ করার কথা শোনা গিয়েছে ট্রাম্পের মুখে। সেই প্রসঙ্গে কালিবাফ বলেন, “আমেরিকা যদি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ করে, এলাকা দখল করে, তাহলে আমেরিকার সামরিক ও জাহাজ কেন্দ্রগুলিকে নিশানা হিসেবে ধরা হবে। আক্রমণের পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নই আমার।”

গত তিন সপ্তাহব্যাপী অশান্তি ইরানের ৩১টি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। নিরাপত্তাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের হত্যার অভিযোগ উঠছে। হাসপাতালে লাশের স্তূপ জমছে বলেও সামনে আসছে দাবি। এখনও পর্যন্ত প্রাপ্ত খবর অনুসারে, নিরাপত্তাবাহিনী ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে কমপক্ষে ৭৮ জন মারা গিয়েছেন। গ্রেফতার করা হয়েছে ২৬০০ মানুষকে। গত ৬০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ইরানে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ। টেলিফোন সংযোগ পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন। এমতাবস্থায় নির্বাসন থেকে বিক্ষোভকারীদের বার্তা দিয়েছেন, যুবরাজ রেজা পহলভিও, যিনি  ইরানের শেষ শাহ মহম্মদ রেজা পহলভির জ্যেষ্ঠপুত্র। তিনি জানিয়েছেন, ট্রাম্প ইরানের বিক্ষোভকারীদের সাহায্য করতে প্রস্তুত। আমেরিকা থেকেই নিজেকে ইরানের আসল নেতা বলে ঘোষণা করেছেন তিনি। গত বছর ইরান এবং ইজ়রায়েলের মধ্যে সংঘর্ষ চলাকালীনও দেশবাসীকে পাশে পেতে আর্জি জানান তিনি।

ইরানের পরিস্থিতির দিকে নজর রেখেছে আমেরিকা। ট্রাম্পের দাবি, তিনিও পরিস্থিতির দিকে নজর রেখেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্প লেখেন, "ইরান স্বাধীনতা চাইছে, আগের চেয়েও বেশি মরিয়া। আমেরিকা সাহায্য় করতে প্রস্তুত।" আমেরিকার বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও জানান, ইরানের সাহসী মানুষের পাশে রয়েছে আমেরিকা। আমেরিকার পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকে তাকিয়ে ইজ়রায়েলও। গত বছরই ইরানের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে তাদের।