তেহরান : 'আন্দোলন চালিয়ে যান, সাহায্য পৌঁছাচ্ছে।' আগের দিনই ইরানের সরকার-বিরোধী আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে বার্তা পাঠিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার পাল্টা সতর্কবার্তা জারি করল ইরানও। মার্কিন সেনাবাহিনীকে আশ্রয় দেওয়া প্রতিবেশীদের সতর্ক করে দিল তেহরান। ওয়াশিংটন যদি আক্রমণ করে, তাহলে মার্কিন  সেনাঘাঁটিগুলিতেও পাল্টা আঘাত করা হবে। বুধবার সংবাদ সংস্থার কাছে এমনই মন্তব্য করেছেন ইরানের আধিকারিক। দেশে চলতে থাকা প্রতিবাদে যোগদানকারীদের পক্ষ নিয়ে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পর আক্রমণ রুখতে তৎপরতা শুরু করেছে ইরান। তিন কূটনীতিক বলেছেন, ওই এলাকায় আমেরিকার প্রধান বায়ুসেনা ঘাঁটি ছাড়ার জন্য কিছু কর্মীকে উপদেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও গত বছর ইরানের মিসাইল হামলার আগে যেরকম তৎপরতা দেখা গিয়েছিল, সেইমতো বৃহৎ আকার বাহিনীর স্থানান্তর দেখা যায়নি এখনও।

Continues below advertisement

ইরানে অশান্তি পর্বে মধ্যস্থতার জন্য বারবার বার্তা পাঠিয়ে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। প্রতিবাদীদের সমর্থনের কথা বলছেন। এদিকে এমন তথ্য সামনে এসেছে যে, ধর্মীয় শাসনকালে ইরানে চলতে থাকা প্রতিবাদে ২৬০০ মানুষ ইতিমধ্যেই নিহত হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প মধ্যস্থতার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ইজরায়েলের এক আধিকারিক। যদিও কখন হবে পদক্ষেপ তা স্পষ্ট করা হয়নি।

Truth Social-এ একটি পোস্টে ট্রাম্প লিখেছিলেন, "ইরানের দেশপ্রেমীরা, আপনারা প্রতিবাদ চালিয়ে যান - আপনাদের প্রতিষ্ঠানগুলির দখল নিন ! খুনি এবং নির্যাতনকারীদের নামগুলি মনে রাখুন। তাদের বড় মূল্য দিতে হবে। বিক্ষোভকারীদের নির্মম হত্যা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আমি ইরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমস্ত বৈঠক বাতিল করেছি। সাহায্য আসছে। MIGA!!! প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ডে ট্রাম্প।" 

Continues below advertisement

সাম্প্রতিক সময়ে এমনিতেই তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সম্পর্কের চূড়ান্ত অবনতি হয়েছে। এই আবহে ট্রাম্পের সাহায্য পাঠানোর বার্তা ঘিরে চাপা উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। আগেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন যে, ইরান নিয়ে খুব জোরাল পদক্ষেপের কথা ভাবছে মার্কিন সেনা। যার পাল্টা জবাব দিয়েছিলেন ইরানের আধিকারিকরা।

হোয়াইট হাউসের প্রেসসচিব ক্যারোলিন লিয়াভিট গত পরশু সাংবাদিকদের বলেছিলেন, 'অনেক বিকল্পের মধ্যে এয়ারস্ট্রাইক অপশন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদিও প্রশাসনের প্রথম পছন্দ কূটনীতি।' প্রসঙ্গত, সোশাল মিডিয়ায় ট্রাম্প আগেই লিখেছিলেন, "ইরান স্বাধীনতা চাইছে, আগের চেয়েও বেশি মরিয়া। আমেরিকা সাহায্য় করতে প্রস্তুত।" এদিকে দেশে যে অশান্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তার জন্য এর আগে সরাসরি আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলকে দায়ী করেছিল ইরান। শুধু তাই নয়, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তার পাল্টা জবাবও দেয় ইরান।