রুমা পাল, কৃষ্ণেন্দু অধিকারী, উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায়, কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গে কি নির্ধারিত সময়েই হবে বিধানসভা নির্বাচন? না কি তা করা সম্ভব হবে না? সেক্ষেত্রে কি রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হতে পারে? রাষ্ট্রপতি শাসনের মধ্যেই হতে পারে বিধানসভা নির্বাচন? প্রশ্ন উঠছে তার কারণ, SIR-এ এখনও বহু তথ্য যাচাইয়ের কাজ বাকি!
২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত ভোটার তালিকা অনুযায়ী, ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জনের নাম 'বিবেচনাধীন' রয়েছে। যার মধ্যে শুক্রবার পর্যন্ত সাড়ে ৭ লক্ষ ভোটারের নিষ্পত্তি হয়েছে বলে, নির্বাচন কমিশন সূত্রে দাবি। অর্থাৎ এখনও বাকি প্রায় সাড়ে ৫২ লক্ষ। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এই কাজ করছেন ৫০১ জুডিশিয়াল অফিসার। সেই কাজে যোগ দেবেন ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড থেকে আসা আরও ২০০ জন জুডিশিয়াল অফিসার। এদিকে বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হবে ৭ মে। এখানেই প্রশ্ন উঠছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই কি এই বিপুল সংখ্যক নথিপত্র যাচাই করা যাবে?
আর যদি তা না করা যায়, তাহলে কী হবে? সমস্ত নথি যাচাই না করেই কি ভোট গ্রহণ সম্ভব? বিধানসভা ভোট পিছিয়ে দিতে হলে কি রাজ্যে ৩৫৬ ধারা প্রয়োগ করতে হতে পারে? কারণ, নির্বাচন কমিশন সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, মার্চের শেষেও বাকি কাজ শেষ হওয়া কার্যত অসম্ভব।
এই পরিস্থিতিতে , প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক দেবাশিস সেনের বক্তব্য, ২৮ তারিখ ফাইনাল লিস্ট। দিন ঘোষণা করতেই পারে। সাংবিধানিকভাবে বাধা নেই। কারণ চূড়ান্ত লিস্ট বের করে দিয়েছে। বিবেচনাধীনগুলি তো সাপ্লিমেন্টারি হিসেবে প্রকাশ হবে। একবার পঞ্জাব ও জম্মু কাশ্মীরে নজির আছে, ভোট পিছিয়ে দেওয়ার পর রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হয়েছিল। কিন্তু এই ইস্যুতে নেই। রাষ্ট্রপতি শাসন হলে এখানকার সরকার ভেঙে দিতে হয়, সেখানে রাজ্যপাল কেন্দ্রের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতে হয়। প্রশাসন রাজ্যপালের অধীনে চলে যায়।
এই জটিল পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন একটাই বিধানসভা ভোট নির্দিষ্ট সময়ে হবে না কি রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হতে পারে কিছুদিনের জন্য ? আর এই পরিস্থিতিতেই রাজ্যে আসছেন নতুন রাজ্য়পাল প্রাক্তন আইপিএস অফিসার আর এন রবি! আর তাঁর আগমন জল্পনা আরও উস্কে দিয়েছে। সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি এখন জল্পনাময়!
