নয়াদিল্লি: জীবনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষার সামনে দাঁড়িয়ে ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। মঙ্গলবার সাধারণ নির্বাচন ছিল সেখানে। তবে বুথফেরত সমীক্ষা বলছে, একচেটিয়া আধিপত্য হারাতে পারেন নেতানিয়াহু। কারণ বিরোধী শিবিরের গাদি আইজ়েনকোট এবং তাঁর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে ভোটবাক্সে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা নাও পেতে পারেন নেতানিয়াহু। (Israel Elections 2026)

Continues below advertisement

১২০ আসন বিশিষ্ট ইজ়রায়েলি সংসদে সংখ্য়াগরিষ্ঠ পেতে হলে ৬১টি আসনে জয়ী হতে হবে। কিন্তু নেতানিয়াহু বা আইজ়েনকোট, দু’জনের কেউই ম্যাজিক সংখ্যা ছুঁতে পারবেন না বলে ইঙ্গিত মিলছে বুথফেরত সমীক্ষায়। এমতাবস্থায় জোট সরকার গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে যেমন আলোচনা শুরু হয়েছে, তেমনই শোনা যাচ্ছে, কোনও পক্ষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে, জট না কাটলে, পুনরায় নির্বাচন হতে পারে। (Benjamin Netanyahu)

আরও পড়ুন: খাঁটি সোনার রাস্তা তৈরি করছে দুবাই, ২৪ ক্যারাট ছাড়া অন্য কিছু নয়, পৃথিবীতে এই প্রথম

Continues below advertisement

বুথফেরত সমীক্ষাকে নেতানিয়াহু নেতৃত্বাধীন ইজ়রায়েলের বর্তমান সরকারের জন্য বড় ধাক্কা বলে করা হচ্ছে এই মুহূর্তে। ইজ়রায়েলের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে এই নির্বাচনের উপর। কিন্তু কোনও পক্ষ যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পায়, জোট গড়ে সরকার চালানোর প্রচেষ্টা যদি সফল না হয়, সেক্ষেত্রে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল মিলে নতুন সরকার গঠনের কাজ সম্পন্ন না করা পর্যন্ত অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাজ চালিয়ে যেতে পারেন নেতানিয়াহু। কিন্তু তাতে আগের মতো একচেটিয়া আধিপত্য আর ধরে ধরে রাখা যাবে না বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

ইজ়রায়েলের Channel 12 জানিয়েছে, সর্বশেষ সমীক্ষা অনুযায়ী, নেতানিয়াহু নেতৃত্বাধীন দক্ষিণপন্থী, অতি রক্ষণশীল জোট সর্বোচ্চ ৫২টি আসন পেতে পারে। আইজ়েনকোট নেতৃত্বাধীন জোট পেতে পারে ৪৯টি আসন। আরব দলগুলির ১৯টি আসনে জয়ী হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। 

ইসরায়েলের চ্যানেল ১২ নিউজের এক্সিট পোলের সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী ও অতি-অর্থোডক্স দলগুলোর জোট ৫০টি আসন পেতে পারে; অন্যদিকে আইজে়নকোটের নেতৃত্বাধীন জোটের আসন সংখ্যা হতে পারে ৫৩টি। আরব দলগুলোর আসন সংখ্যা একটি বেড়ে ১৭টিতে দাঁড়িয়েছে। এমতাবস্থায় শোনা যাচ্ছে, জেরুসালেমে দলের সদর দফতরে শীঘ্রই বৈঠক করতে পারেন নেতানিয়াহু। সেখানে কী বার্তা দেন তিনি, তা শোনার জন্য অপেক্ষা করছেন সকলে। 

আরও পড়ুন: পৃথক দেশ তৈরি করে ফেললেন যুবক, মাত্র ২১ বছর বয়সে প্রেসিডেন্ট, এবার রাষ্ট্রপুঞ্জের পুরস্কার পেলেন

অন্য দিকে, আইজে়নকোট মনে করছেন, ইজ়রায়েলে ক্ষমতার পালাবদল নিশ্চিত। তিনি বলেন, “আমরা ইতিহাস রচনা করেছি। মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। ওই জোট ব্যর্থ, মানুষের আস্থা হারিয়েছে তারা। ইজ়রায়েলি নাগরিকগণ নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন। না জনাদেশ নেতানিয়াহুর পক্ষে, না মানুষের আস্থা জিততে সফল তিনি। নিজের রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে ইজ়রায়েলের নিরাপত্তাকে ব্যবহার করার দুঃসাহস দেখানো উচিত নয় কারও। ইজ়রায়েলের মানুষের উপর বিশ্বাস রয়েছে। নতুন অধ্যায় শুরু হতে চলেছে।” তবে এখনই কিছু ঘোষণা না করে, চূড়ান্ত ফলাফল হাতে আসার অপেক্ষা করছেন তিনি।

প্রায় দু’দশক ইজ়রায়েলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন নেতানিয়াহু। কিন্তু সাম্প্রতিক কালে তাঁর একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে হামাসের সঙ্গে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া থেকে, পড়শি দেশ লেবাননে হামলা চালানো, আমেরিকার সঙ্গে মিলে ইরানের উপর হামলা, তাঁকে ‘যুদ্ধবাজ’ আখ্যা দিতেও শুরু করেছেন সমালোচকরা। এমনকি নির্বাচন চলাকালীনও দেশের মানুষের মনে তিনি ভীতি সঞ্চারের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। কারণ নির্বাচন চলাকালীনই আরব দলগুলির প্রতি সমর্থনবৃদ্ধির দিকে ইঙ্গিত করেন তিনি। শত্রুদমনে তাঁর জুড়ি মেলা ভার বলেও দাবি করেন। 

কিন্তু আইজ়েনকোটের মতো রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীর সামনে আগে পড়তে হয়নি নেতানিয়াহুকে। প্রাক্তন সেনা কর্তা আইজ়েনকোট মরক্কো থেকে আসা অভিবাসী পরিবারের সন্তান। গাজ়ায় যুদ্ধ করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন আইজ়েনকোটের ছেলে। ক্ষমতায় টিকে থাকার পরিবর্তে এই মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী পদের দায়িত্বশীলতা নিয়ে এই মুহূর্তে জোর চর্চা ইজ়রায়েলে। সেই ধারণাকে প্রতিষ্ঠিত করতে সফল হয়েছেন আইজ়েনকোট। আইজ়েনকোট মধ্যপন্থী ‘ইয়াশার’ দলের নেতা। তিনি ইজ়রায়েলের প্রান্তিক ‘মিজরাহি’ সম্প্রদায়ের সদস্য, যাঁরা পশ্চিম এশিয়া, উত্তর আফ্রিকা এবং মধ্য এশিয়া থেকে ইজ়রায়েলে আশ্রয় নেওয়া ইহুদি জনগোষ্ঠী। ইজ়রায়েলের মূলধারার রাজনীতিতে তাদের উত্থানও তাৎপর্যপূর্ণ।