নয়া দিল্লি: ISRO-কে বেসরকারিকরণ করা হচ্ছে, কিংবা ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থার গুরুত্ব কমিয়ে দেওয়া হবে—এমন জল্পনা গত কয়েকদিনে সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেই বিতর্কের মাঝেই বড়সড় ব্যাখ্যা দিল কেন্দ্র। স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ISRO কখনও বেসরকারিকরণ হবে না, বরং ভবিষ্যতের মহাকাশ প্রযুক্তি ও গবেষণার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবেই থাকবে।
কেন্দ্রের বক্তব্য অনুযায়ী, পরিবর্তন হচ্ছে ISRO-র গুরুত্বে নয়, পরিবর্তন হচ্ছে ভারতের মহাকাশ ইকোসিস্টেমের পরিসর ও কাঠামোয়। অর্থাৎ, শিল্প, স্টার্টআপ ও বেসরকারি সংস্থাগুলিকে সঙ্গে নিয়ে আরও বড় পরিসরে এগোতে চাইছে ভারতের স্পেস সেক্টর।
কেন উঠল ISRO বেসরকারিকরণের জল্পনা?
২০২০ সালে শুরু হওয়া স্পেস সেক্টর সংস্কার এবং Indian Space Policy 2023-এর পর থেকেই বেসরকারি সংস্থার অংশগ্রহণ বাড়ছে। এর জেরেই অনেকের ধারণা হয়েছিল, ধীরে ধীরে ISRO-র ভূমিকা কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
কিন্তু কেন্দ্র জানিয়ে দিয়েছে, এই ধারণা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর। ISRO-র মূল দায়িত্ব অপরিবর্তিত থাকবে—
উন্নত মহাকাশ গবেষণা
জাতীয় ও কৌশলগত মহাকাশ মিশন
স্পেস সায়েন্স ও এক্সপ্লোরেশন
মানব মহাকাশযাত্রা (Gaganyaan)
ডিপ-স্পেস ও গ্রহ অভিযানের মতো উচ্চস্তরের প্রকল্প
তাহলে বেসরকারি সংস্থার ভূমিকা কী?
কেন্দ্রের মতে, ISRO-র কাজ কমানো নয়, বরং ISRO-কে আরও উচ্চস্তরের গবেষণায় মনোনিবেশ করার সুযোগ করে দেওয়া-ই এই সংস্কারের লক্ষ্য।
সহজ ভাষায়—
ISRO করবে
শিল্প ও স্টার্টআপ করবে
নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন
পরিণত প্রযুক্তির উৎপাদন
মানব মহাকাশযাত্রা
বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট তৈরি
ডিপ স্পেস মিশন
লঞ্চ ভেহিকলের উৎপাদন
উন্নত সেন্সর ও প্রপালশন
স্কেল-আপ ও রপ্তানি
অর্থাৎ, ISRO গবেষণা করবে, আর শিল্প সেই প্রযুক্তিকে বাজারে পৌঁছে দেবে।
‘ISRO-led National Space Ecosystem’ কী?
কেন্দ্র নতুন একটি ধারণার কথা বলেছে—ISRO-led National Space Ecosystem।
এর অর্থ, পুরো মহাকাশ শিল্পের নেতৃত্বে থাকবে ISRO। তবে তার সঙ্গে যুক্ত হবে—
বেসরকারি স্পেস কোম্পানি
স্টার্টআপ
বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান
সরকারি সংস্থা ও PSU
ফলে গবেষণা, উৎপাদন, উদ্ভাবন এবং আন্তর্জাতিক বাজার—সব ক্ষেত্রেই ভারতের সক্ষমতা বহুগুণ বাড়বে।
কেন এই পরিবর্তন প্রয়োজন?
গত এক দশকে ভারতের মহাকাশ শিল্প দ্রুত বেড়েছে। একদিকে ISRO চন্দ্রযান, আদিত্য-L1 কিংবা গগনযানের মতো জটিল প্রকল্পে কাজ করছে, অন্যদিকে ছোট স্যাটেলাইট, বাণিজ্যিক উৎক্ষেপণ ও স্পেস ডেটার বাজারও দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে।
কেন্দ্রের মতে, শুধুমাত্র একটি সংস্থার পক্ষে এই বিপুল চাহিদা সামলানো সম্ভব নয়। তাই ম্যাচিওর প্রযুক্তি শিল্পের হাতে তুলে দিয়ে ISRO-র বিজ্ঞানীদের ভবিষ্যতের প্রযুক্তিতে নিয়োজিত করা-ই সবচেয়ে কার্যকর পথ।
ISRO-র ভবিষ্যৎ ফোকাস কী হবে?
আগামী দিনে ISRO আরও বেশি গুরুত্ব দেবে—
মানব মহাকাশ অভিযান
পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তি
পরবর্তী প্রজন্মের লঞ্চ সিস্টেম
ডিপ স্পেস ও গ্রহ অনুসন্ধান
উন্নত যোগাযোগ ও ন্যাভিগেশন স্যাটেলাইট
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর মহাকাশ প্রযুক্তি
উন্নত প্রপালশন ও সেন্সর
অন্যদিকে, নিয়মিত ব্যবহৃত স্যাটেলাইট ও লঞ্চ ভেহিকলের উৎপাদন ধীরে ধীরে শিল্প ও PSU-র মাধ্যমে বাড়ানো হবে।
ভারতের মহাকাশ অর্থনীতির লক্ষ্য
কেন্দ্রের লক্ষ্য, আগামী দশকে ভারতকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মহাকাশ অর্থনীতিতে পরিণত করা। এর জন্য গবেষণা, বেসরকারি বিনিয়োগ, উৎপাদন এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতাকে একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কৌশল নেওয়া হয়েছে।
