মেঘভাঙা বৃষ্টি হয়েছে জম্মু ও কাশ্মীরের চাশোটি এলাকায়। আর তার জেরে হড়পা বানও এসেছে কিশতোয়ারের এই জায়গায়। ইতিমধ্যেই অন্তত ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধার কাজ শুরু করেছে সেনাবাহিনী এবং বিপর্যয় মোকাবিলাকারী দল। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এই চাশোটি এলাকা থেকেই শুরু হয় পবিত্র মাচাইল মাতা যাত্রা। অন্যদিকে কিশতোয়ারে রয়েছে হিমালয়ের অত্যন্ত পবিত্র ধর্মীয় স্থান মা চণ্ডীর মন্দির। সেখানে যাওয়ার জন্য এই চাশোটি-ই হল শেষ গ্রাম যেখানে যানবাহন যেতে পারে। এরপর থেকে পায়ে হেঁটে যাত্রা করতে হয়। মেঘভাঙা বৃষ্টি এবং তার জেরে হড়পা বানের ফলে আপাতত এবছরের মাচাইল মাতা যাত্রা স্থগিত হয়েছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। 

ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় কিশতোয়ারের চাশোটি এলাকার বেশ কিছু ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দেখা গিয়েছে পুণ্যার্থীদের দুর্ঘটনাগ্রস্ত এলাকা থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এক উদ্ধারকারীকে দেখা গিয়েছে তিনি কোলে করে নিয়ে যাচ্ছেন একজনকে। বাকিরা আসছে হেঁটেই। ভেঙে গিয়েছে রাস্তাঘাট। সার দিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে গাড়ি। ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে দ্রুত পৌঁছে গিয়েছেন কিশতোয়ারের ডেপুটি কমিশনার পঙ্কজ শর্মা এবং এসএসপি নরেশ সিং। জোরকদমে উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁরা। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং জম্মু ও কাশ্মীরের উধমপুরের সাংসদ জিতেন্দ্র সিংয়ের কথা হয়েছে ডেপুটি কমিশনার পঙ্কজ শর্মার সঙ্গে। জিতেন্দ্র সিং জানিয়েছেন, জম্মু ও কাশ্মীর বিধানসচার বিরোধী নেতা এবং স্থানীয় বিধায়ক সুনীল কুমার শর্মার থেকে খবর পাওয়ার পরই কিশতোয়ারের ডেপুটি কমিশনারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। 

জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ, সেনাবাহিনী এবং বিপর্যয় মোকাবিলাকারী দলগুলি একত্রিত হয়ে দ্রুত উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। সাধারণ মানুষকে নিরাপদে ওই এলাকা থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়াই তাদের প্রাথমিক লক্ষ্য। বেশ বড় মাত্রায় বিপর্যয় হয়েছে কিশতোয়ারের চাশোটি এলাকায়। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও প্রচুর হতে চলেছে বলে আন্দাজ করা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত অন্তত ১০ থেকে ১২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সূত্রে। উদ্ধার করা হয়েছে অনেক মহিলা এবং শিশুদের। উদ্ধারকাজের ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে সংবাদ সংস্থা এএনআই- এর এক্স মাধ্যমে।