সোমবার সকাল হয়েছিল ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলের ভূমিকম্পের খবরে। আর মঙ্গলবার আরও বেশি তীব্রতার ভূমিকম্প ঘটল ভূকম্পপ্রবণ জাপানে। জাপানের আবহাওয়া অফিস সূত্রেই খবর, মঙ্গলবার জাপানের পশ্চিমে চুগোকু অঞ্চলে শক্তিশালী একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এরপর বেশ কয়েকটি বড় ধরনের আফটারশকও অনুভূত হয়েছে। রিখটার স্কেলে প্রথম ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৬.২ । বিশ্বের সবচেয়ে ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলগুলির জাপান অন্যতম।
জাপানের সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রথম ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল পূর্ব শিমানে প্রিফেকচারে। তবে জাপানে ভূমিকম্প হলেই সুনামির আশঙ্কা সবথেকে বেশি থাকে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারে সুনামির কোনও আশঙ্কা নেই। তবে যেখানে ভূমিকম্পটি হয়েছে, সেখান থেকে মাত্র ৩২ কিলোমিটার (২০ মাইল) দূরেই জাপানের চুগোকু ইলেকট্রিক পাওয়ার পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র । এর আগে ২০১১ র সুনামিতে ভয়ঙ্কর ক্ষতিগ্রস্ত হয় ফুকুশিমা দাইচি পরমাণু কেন্দ্রের চুল্লিগুলি। ফুকুসিমায় সমুদ্র তীরবর্তী দুটি পরমাণু কেন্দ্র বন্ধ করা হয়। কম্পনের জেরে ফুকুশিমায় পারমাণবিক চুল্লির কোনও ক্ষতি হয়নি বলে সরকারের তরফে জানানো হয়েছে ৷
এবার জাপানের পারমাণবিক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে বিদ্যুৎকেন্দ্রে কোনও অনিয়ম হয়নি। সংস্থার এক রিক জানিয়েছেন, ইউটিলিটি প্ল্যান্টের ২ নম্বর ইউনিটের উপর কোনও প্রভাব ফেলছে কিনা তা পরীক্ষা করছে। এই ইউনিটটি ২০১১ সালের মার্চ মাসে ফুকুশিমায় ঘটে যাওয়া বিপর্যয়ের পর বন্ধ হয়ে যায়। তারপর ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে চালু রয়েছে।
পার হয়ে গিয়েছে ১ যুগেরও বেশি। কিন্তু আজও চোখ বন্ধ করলে সেই ভয়ানক দিনটাকে মনে করতে পারেন জাপানের পূর্ব প্রান্তের মানুষ৷ ২০১১ সাল। মার্চ মাসে হঠাৎই সেদিন দুলে উঠেছিল পায়ের তলার মাটি ৷ ধেয়ে এসেছিল সমুদ্র ৷ মুহূর্তে ছারখার হয়ে গিয়েছিল সাজানো সব কিছু৷ জলের তোড়ে কার্যত ধুয়ে গিয়েছিল জাপানের পূর্ব উপকূল৷ ভেসে গিয়েছিলেন প্রায় হাজার কুড়ি মানুষ৷ যার মধ্যে অন্তত হাজার খানেক মানুষের দেহ আর ফিরিয়ে দেয়নি সমুদ্র৷ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এই ফুকুশিমা ও মিয়াগি প্রিফেকচার এলাকা ৷ ধ্বংস হয়ে যায় দাইচি পরমাণু কেন্দ্রের তিনটি চুল্লি ৷ সেই কেন্দ্রের কাজই ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে চালু হয়।