জিয়াগঞ্জ হত্যাকাণ্ড: নিহত শিক্ষক আরএসএস সদস্য, মন্তব্যে অনড় দিলীপ, রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হওয়া উচিত, দাবি সঙ্ঘের
Web Desk, ABP Ananda | 11 Oct 2019 10:48 PM (IST)
খুনের ঘটনা নিয়ে শুক্রবার ট্যুইটারে সরব হয়েছেন পরিচালক অপর্ণা সেন।
Murshidabad, Jiagunj, Jiagunj murder, Jiagunj trile murder, জিয়াগঞ্জ(মুর্শিদাবাদ): জিয়াগঞ্জের নিহত শিক্ষক আরএসএস-এর দীর্ঘদিন ধরে সদস্য ছিলেন। পুরনো অবস্থানে অনড় থেকে ফের দাবি রাজ্য বিজেপি সভাপতির। নিহতের পরিবারের সদস্য বা বন্ধুরা কেউ এরকম কিছু দাবি করেননি। নবান্নে প্রেস বিবৃতি জারি করে জানাল পুলিশ। খুনের ঘটনা নিয়ে শুক্রবার ট্যুইটারে সরব হয়েছেন পরিচালক অপর্ণা সেন। বৃহস্পতিবারের পর শুক্রবারও নিহতকে আরএসএসের সদস্য বলে দাবি করলেন দিলীপ ঘোষ। দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে আরএসএসের সদস্য নিহত শিক্ষক বন্ধুপ্রকাশ পাল। তবে দিলীপ একথা বললেও সঙ্ঘের মুখপাত্রের গলায় কিছুটা অন্য সুর শোনা গিয়েছে। আরএসএস (দক্ষিণবঙ্গ)-এর প্রান্ত কার্যবাহক যিষ্ণু বসু বলেন, কয়েকমাস আগে যোগ দেন। নিহত শিক্ষকের পরিবারের সদস্যরা অবশ্য আগেই তাঁর আরএসএস-যোগের বিষয়টি পুরোপুরি খারিজ করে দিয়েছেন। নবান্নে পুলিশের তরফে দেওয়া প্রেস বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, নিহত শিক্ষক বন্ধুপ্রকাশ পালের আরএসএস-যোগের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন তাঁর মা মায়া পাল। তদন্তে নিহতের পরিবারের সদস্য বা বন্ধুদের কেউ দাবি করেননি যে, তাঁর সঙ্গে আরএসএসের যোগ ছিল। তল্লাশিতে বাড়ি থেকেও এমন কোনও নথি উদ্ধার হয়নি। একই সুর শোনা গিয়েছে নিহতের ভাইয়ের গলাতেও। পাল্টা তত্ত্ব খাড়া করেছেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি। পুরো বিষয়টি নিয়ে দিলীপ ঘোষকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি তৃণমূল। পরিষদীয় প্রতিমন্ত্রী তাপস রায় বলেন, মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি করছে বিজেপি। দিলীপ ঘোষ ক’দিন আগে বলেছিলেন মোদি অমর রহে। তিনি কতটা ভুল বকেন, সেটা মানুষ জানে। শিক্ষক, তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও ছেলের খুনের ঘটনাকে হাতিয়ার করে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার অবনতির অভিযোগ তুলছে বিজেপি। বৃহস্পতিবার রাজভবনের তরফে জারি বিবৃতিতেও বলা হয়, এই ঘটনা অসহিষ্ণুতা এবং উদ্বেগজনক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির স্পষ্ট প্রতিফলন। শুক্রবার অভিনেত্রী তথা পরিচালক অপর্ণা সেন এই ঘটনা নিয়ে ট্যুইট করেন, পশ্চিমবঙ্গে আরএসএস-এর সদস্যের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী এবং সন্তানকে হত্যা করা হয়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের কারণ যা-ই হোক, এটা আমাদের সকলের লজ্জা। মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী, আপনি নিশ্চিত করুন, অপরাধীরা যেন শাস্তি পায়। রাজনৈতিক মতাদর্শ যা-ই হোক, পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত নাগরিকের দায়িত্ব আপনার। আপনি সকলের মুখ্যমন্ত্রী। নিহতের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয় নিয়ে এই তরজার মাঝেই জিয়াগঞ্জের খুনের ঘটনাকে হাতিয়ার করে পথে নেমে পড়েছে গেরুয়া শিবির। শিক্ষক খুনের ঘটনাকে হাতিয়ার করে তৃণমূলের বিরুদ্ধে সুর আরএসএস-ও। এভাবে রাজনৈতিক সংঘর্ষ চললে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হওয়া উচিত বলে দাবি সঙ্ঘের। দিল্লি শাখার প্রধান অলক কুমার বলেন, যদি সরকারের ব্যর্থতার কারণে এভাবে রাজনৈতিক সংঘর্ষ চলতে থাকে, তাহলে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হওয়া উচিত। এই ইস্যুতে তৃণমূল-বিজেপিকে একযোগে আক্রমণ করেছে কংগ্রেস। সাংসদ অধীর চৌধুরী বলেন, আইনশৃঙ্খলা খারাপ। রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হওয়া উচিত। কিন্তু, দিল্লিতে তৃণমূল-বিজেপির বন্ধুত্ব। দোষীদের গ্রেফতারের দাবিতে শুক্রবার নিহত শিক্ষকের বাড়ি থেকে জিয়াগঞ্জ থানা পর্যন্ত মিছিল করে বিজেপি প্রভাবিত নাগরিক সমাজ। পাশাপাশি, কাল বেলা ১২টা নাগাদ পুরুলিয়া পোষ্ট অফিস মোড়ে পথ অবরোধ করে বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। কলকাতার কালিন্দিতে মোমবাতি মিছিল করে হিন্দু জাগরণ মঞ্চ। এদিন শিলিগুড়ির বাঘাযতীন পার্কে মোমবাতি মিছিলের আয়োজন করা হয়।