বেঙ্গালুরু: বড় সিদ্ধান্ত নিল কর্নাটক সরকার। কিশোর কিশোরীরা সোশ্যাল মিডিয়ায় মন দেওয়ার ফলে হারাচ্ছে পড়াশোনার উপর ফোকাস, ফিকে হচ্ছে সামাজিক জীবন, এই অভিযোগ বহু মানুষের। এবার এই বিষয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল কর্নাটকের সরকার। শুক্রবার বাজেট পেশ হচ্ছে কর্নাটক বিধানসভায় । সেখানেই বড় সিদ্ধান্তের কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া ।

Continues below advertisement

কোথায় কোথায় সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার নিষিদ্ধ? 

রাজ্য বাজেট উপস্থাপনের সময়, কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করলেন, ১৬ বছরের কম বয়সীরা আর সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করতে পারবে না। তাঁর মতে, শিশুদের উপর মোবাইল ব্যবহারের ক্রমবর্ধমান বিরূপ প্রভাব রোধ করতেই এই কড়া পদক্ষেপ। রয়টার্স সূত্রে খবর, ৭৫ টি কোটি ডিভাইস এবং ১ বিলিয়ন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী রয়েছে ভারতের স্মার্টফোন বাারে ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্মার্টফোন বাজার। বিশ্বব্যাপী ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এবং হোয়াটসঅ্যাপের ব্যবহারকারীর সংখ্যা এদেশে সবচেয়ে বেশি। এদের মধ্যে রয়েছে বহু বহু অনূর্ধ্ব ১৬ কিশোর-কিশোরী। তাদের কথা ভেবেই এই সিদ্ধান্ত নিল কর্নাটক সরকার। কর্ণাটকের প্রতিবেশী রাজ্য গোয়াও একই রকম নিষেধাজ্ঞার কথা ভাবছে । জানুয়ারিতে গোয়ার তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী এ বিষয়ে তাঁর মতপ্রকাশ করেন। এখন অন্য কোনও রাজ্য কর্নাটকের অনুসারী হয় কি না সেটাই দেখার।                           

Continues below advertisement

কর্নাটক কীভাবে বিষয়টি প্রচারে আনছে 

গত মাসে বেঙ্গালুরুতে রাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন মুখ্যমন্ত্রী  সিদ্দারামাইয়া। সম্মেলনে এই বিষয়টি উত্থাপন করেন মুখ্যমন্ত্রী। এই বিষয়ে উপাচার্যদের মতামত চেয়েছিলেন তিনি। আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী শিশু, কিশোর পড়ুয়াদের উপর মোবাইল আসক্তি, অনলাইন গেমিংয়ের প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন। তারপরই এদিনের সিদ্ধান্ত।  এছাড়া কর্নাটক সরকার সম্প্রতি শিশুদের বই পড়া এবং লাইব্রেরি পরিদর্শনে উৎসাহিত করার জন্য একটি বিশেষ সচেতনতা কর্মসূচি শুরু করেছে। 

শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়ার প্রতি ক্রমবর্ধমান আসক্তি এবং অবাধ ইন্টারনেট ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বিশ্বব্যাপী । এই বিষয়ে আগেই বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। গত ডিসেম্বর মাসে অস্ট্রেলিয়া শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করে। ব্রিটেন, ডেনমার্ক এবং গ্রীসও এই বিষয়টি নিয়ে  ভাবনা চিন্তা করছে। ইন্দোনেশিয়াও এরপর একই পথে হাঁটতে চলেছে বলে জানা গিয়েছে।