Karnataka News: কর্ণাটকের হাসান জেলায় গত ৪০ দিনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে আর এর ফলে রাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসন গভীর দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। রাজ্য সরকার এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতির জরুরি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে, হাসানে ইতিমধ্যেই পৌঁছে গিয়েছে একটি বিশেষজ্ঞের দল। তারা এই মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান করবে।

স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে মৃতদের অনেকেই ছিলেন তরুণ, এবং কয়েকজন ছিলেন মধ্যবয়স্ক। কিন্তু তাদের কোনও হৃদরোগের সমস্যা ছিল না। এই ঘটনায় জনস্বাস্থ্য নিয়ে নতুন প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছেন নাগরিকরা। এই জেলায় হৃদরোগে মৃত্যুর সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে গিয়েছে। ৩০ জুন আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে আর তা নিয়ে গত ৪০ দিনে মোট ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে হার্ট অ্যাটাকে। তথ্য অনুসারে ২২ জনের মৃত্যুর মধ্যে ৫ জনের বয়স ছিল ১৯ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে এবং ৮ জনের বয়স ছিল ২৫ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে। মাত্র কয়েকজনের বয়স ছিল ৬০ বা এর বেশি। তরুণদের মধ্যে এই হৃদরোগের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যবিভাগের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়াও এই বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে সাম্প্রতিক দিনগুলিতে হাসান জেলায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ৪০ দিনে ২২ জনের পরপর মৃত্যু কোনও স্বাভাবিক ঘটনা হতে পারে না। এই ঘটনার বৈজ্ঞানিক পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত হওয়া দরকার। সাধারণ মানুষের অধিকার আছে ঘটনার সত্য জানার আর তাই এই মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান করতে ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে জয়দেব ইনস্টিটিউট অফ কার্ডিওভাসকুলার সায়েন্সেস অ্যান্ড রিসার্চের পরিচালক ডা. রবীন্দ্রনাথের নেতৃত্বে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়েছে, ১০ দিনের মধ্যে এই কমিটিকে অনুসন্ধানের প্রতিবেদন জমা করতে বলা হয়েছে। এর আগে ফেব্রুয়ারি মাসে রাজ্যের তরুণদের মধ্যে হৃদরোগের ঝুঁকি ও কোভিড ভ্যাকসিনের কোনও প্রতিকূল প্রভাব থাকতে পারে কিনা তা নিয়ে অনুসন্ধান করতে বলা হয়েছিল।

মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া আরও বলেন যে, 'তাড়াহুড়ো করে কোভিড ভ্যাকসিনের অনুমোদন এবং সাধারণ মানুষের কাছে বিতরণও এই মৃত্যুর একটি কারণ হতে পারে, এটা অস্বীকার করা যাবে না। কারণ সম্প্রতি বিশ্বজুড়ে অনেক গবেষণায় ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে কোভিড ভ্যাকসিন হৃদরোগের ক্রমবর্ধমান সংখ্যার একটি কারণ হতে পারে। বিজেপি এই বিষয়ে আমাদের সমালোচনা করার আগে তাদের বিবেককে জিজ্ঞাসা করা উচিত এই একই প্রশ্ন।' রাজ্য সরকারের তরফে সেই রাজ্যের বাসিন্দাদের আতঙ্কিত না হয়ে যথাযথ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে এবং সতর্ক থাকতে অনুরোধ করা হয়েছে।