নয়াদিল্লি: রাতবিরেতে কোচিং সেন্টারে ভাঙচুর, গুলিও চলেছিল। সেই ঘটনায় এবার অভিযোগ দায়ের জনপ্রিয় শিক্ষক খান স্যর ওরফে ফয়জল খানের বিরুদ্ধেই। অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের জন্য আবেদন জানাতে চলেছেন খান স্যর। গোটা ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। খানস্যরের আইনজীবী অরবিন্দ কুমার মহুয়ারের দাবি, ষড়যন্ত্র চলছে, যাতে খান স্যরকে কালিমালিপ্ত করা যায়। যদিও খান স্যরকে গ্রেফতার করা হতে পারে বলে আশঙ্কিত কোচিং সেন্টারের পড়ুয়া থেকে তাঁর অনুগামীরা। (Khan Sir Booked)
গত মঙ্গলবার রাতে পটনায় খান স্যরের কোচিং সেন্টারে ভাঙচুর চালায় দুষ্কৃতীরা। ১৫-২০ জন দুষ্কৃতী চড়াও হয় সেখানে। এলোপাথাড়ি ইট, পাথরবৃষ্টিও চলে। ওই ঘটনায় পর পর গুলিও চলে বলে অভিযোগ ওঠে। গোটা ঘটনায় কোচিং সেন্টারের দুই নিরাপত্তারক্ষীকে আটক করে পুলিশ। ঝামেলার সময় তাঁরা গুলি ছোড়েন বলে অভিযোগ। সেই ঘটনায় খান স্যরের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে বলে জানিয়েছেন পটনা পুলিশের সিনিয়র সুপার কার্তিকেয় শর্মা। (Khan Sir Coaching Centre Vandalims)
খান স্যরের আইনজীবী অরবিন্দ যদিও দাবি করেছেন, এই গোটা ঘটনাই ষড়যন্ত্র। ভাঙচুর এবং হামলার ঘটনায় ‘খান গ্লোবাল স্টাডিজ় ইনস্টিটিউটে’র কর্মীরা অন্য একটি কোচিং সেন্টারের ডিরেক্টরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। তার পাল্টাই খান স্যরের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে বদলাস্বরূপ। অরবিন্দ জানিয়েছেন, খান স্যর আত্মসমর্পণ করবেন না। অন্তর্বর্তী জামিনের জন্য আবেদন জানাবেন।
এখনও পর্যন্ত যা খবর, সেই অনুযায়ী, সোমবার অন্তর্বর্তী জামিনের আবেদন করতে পারেন খান স্যর। অরবিন্দের দাবি, আন্মরক্ষার্থে কোচিং সেন্টারের নিরাপত্তারক্ষীরা শূন্যে গুলি চালিয়েছিলেন। সেই ভিডিও এবং ছবিও রয়েছে। কেউ আহত হননি। ইচ্ছাকৃত ভাবে খান স্যরকে ফাঁসানো হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ফাটল চওড়া হচ্ছে বিরোধী জোটে? কংগ্রেসকে কড়া চিঠি দিল CPM, বৈঠকে থাকছে না DMK, তৃণমূল নিজেই ছারখার
শিক্ষক খান স্যর অত্যন্ত জনপ্রিয়। ক্লাসরুমের বাইরেও পরিচিতি রয়েছে তাঁর। বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, মাসে ১০ থেকে ২০ লক্ষ টাকা আয় করেন তিনি। ইউটিউবেও অনলাইন ক্লাস নেন। কোচিং সেন্টার চালানোর পাশাপাশি গবেষণার কাজেও লিপ্ত। এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তরের ডিগ্রি রয়েছে। প্রথমে সেনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছে ছিল তাঁর। পরবর্তীতে শিক্ষাক্ষেত্রে নিযুক্ত হন। কঠিন বিষয় সহজ করে বোঝানোর জন্য খ্যাতি আছে খান স্যরের।
কোচিং সেন্টারে হামলার ঘটনায় গোড়াতেই ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছিলেন খান স্যর। তাঁর দাবি ছিল, তিনি কমটাকায় ছাত্রছাত্রী পড়ান। সেই ছাত্রছাত্রীরা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সফলও হন। সেই হিংসা থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বী কোচিং সেন্টারের মালিকরা হামলা করিয়েছে। সেই সময় খান স্যরের পাশেও দাঁড়ান পড়ুয়ারা। হামলার বিরুদ্ধে বিক্ষোভও দেখান। কিন্তু মামলা ঘুরে যা কোচিং সেন্টারের দুই নিরাপত্তারক্ষী আটক হওয়ার পর। অন্য এক কোচিং সেন্টারের ডিরেক্টরও গ্রেফতার হয়েছেন এই ঘটনায়। এখনও তদন্ত চলছে।
