কলকাতা: মমতার হাত ছেড়ে 'ঋতব্রত তৃণমূল'-এ চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। এই প্রসঙ্গে কালীঘাট তৃণমূল-এর সদস্য সৌগত রায় বলেছেন, 'আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলেন চন্দ্রিমা। মমতাই ওকে দেরি করতে বলেছিলেন। চন্দ্রিমা বলছেন, ওকে অন্ধকারে রেখে বাজেট হত, আগে বলেননি কেন?'এবার নিশানা সৌগত রায়ের।
সৌগত রায় বলেছেন, উনি শেষের কবিতা থেকে উদ্ধৃত করেছেন। আজকে ওর কাব্যিকতা ওকে আক্রমণ করেছে। কি বলব, দুঃখিত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী থাকার সময়, ভাল ভাল পদ পেয়েছে। চন্দ্রিমা একবার হেরে গিয়েছিল বিধানসভায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওকে কাঁথি থেকে জিতিয়ে এনেছিলেন। কী বলব, লোকে যদি মনে না রাখে, ..আমি কি করতে পারি।..প্রতিমন্ত্রী ছিলেন, সিদ্ধান্ত নেবেন কী করে ? '
গত ২২ জুন, বিশেষ বৈঠক ডাকে ঋতব্রত-তৃণমূল শিবির। যে বৈঠকে গঠিত হয় নতুন জাতীয় কমিটি। সেদিনের বৈঠকে হাজির ছিলেন, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যর ছেলে, কলকাতা পুরসভার ৮৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর, সৌরভ বসু। বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,সৌরভ বসু, তিনি কলকাতা পুরসভার একজন গুরুত্বপূর্ণ কাউন্সিলর, জনপ্রিয় কাউন্সিলর, তিনি আমাদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন এবং নিশ্চিত ভাবে আগামী দিনে যে লড়াইয়ের কথা অরূপ দা বললেন, সেই লড়াইয়ে সৌরভও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।' কুণাল ঘোষ বলেন,তাঁর ছেলে ওখানে চলে গেছেন। ওদিকের মিটিং-এ গিয়ে বসেছিলেন। তাহলে, এটাও লক্ষ্য রাখতে হবে যে, মা হিসেবে তাঁর ওপর কোনও একটা অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছিল কি হচ্ছিল না। বা তিনিও চাইছিলেন আস্তে আস্তে। সদ্য পদত্যাগী তৃণমূল নেত্রী ও প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, তাহলে যাওয়ার পরেও কেন আমাকে রেখে দিলেন? আমি তো যেদিনকে নভোটেলে সৌরভ গিয়েছে আমি তৎক্ষণাৎ গিয়ে নেত্রীকে বলেছি যে আমাকে ছেড়ে দিন। নেত্রী আমাকে বলেছিলেন যে না ও গেছে ঠিক আছে। তুমি থাক। তো আমি ছিলাম। যেরকম বলেছিলেন।সৌরভ যে ২২ তারিখে নভোটেলে গেছে, সেই নভোটেলে যাওয়ার পর থেকে আমি সৌরভের সঙ্গে গতকালের আগে অবধি একটা কথা রাজনীতি নিয়ে বলিনি। অর্থাৎ নভোটেলে কী আলোচনা হয়েছে, ওখানে কী হয়েছে, সেটা যেমন সৌরভকে আমি জিজ্ঞাসা করিনি। তেমনি আমার ওখানে কী হয়েছে ভবনে কী কালীঘাটে, সৌরভকেও সেকথা জানাইনি। 'শনিবার, পদত্য়াগের পর, ছেলের সঙ্গেই বিধানসভায় আসেন তৃণমূল সরকারের আমলের এই হেভিওয়েট মন্ত্রী। শুক্রবার সন্ধেয়, মেট্রোপলিটনে তৃণমূল ভবনে যখন সদলবলে পা রাখে 'ঋতব্রত-তৃণমূল'। ঠিক তার আগের মুহূর্তে সেখান থেকে বেরিয়ে যান চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।
