কলকাতা : দেশজুড়ে বেড়েছে পেট্রোল-ডিজেলের দাম। আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রুড অয়েল ১০২ ডলারে পৌঁছতেই এলপিজি-র দাম নিয়েও বাড়ছে উদ্বেগ।  দেশজুড়ে শুক্রবার সকাল থেকেই কার্যকর হয়েছে পেট্রোল ও ডিজেলের নতুন দাম। লিটারপ্রতি পেট্রোলের দাম বেড়েছে ৩ টাকা। অন্যদিকে ডিজেলের দাম বেড়েছে ৩ টাকা ১১ পয়সা। পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত পরিস্থিতির জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে বড় লাফের পর থেকেই জ্বালানির দাম বৃদ্ধির জল্পনা চলছিল। অবশেষে সেই আশঙ্কাই সত্যি হয়েছে।

Continues below advertisement

এবার প্রশ্ন উঠছে, পেট্রোল-ডিজেলের পর কি বাড়তে চলেছে রান্নার গ্যাসের দামও? কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০২ ডলারে পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে এলপিজি-র দামেও প্রভাব পড়তে পারে।

এদিকে পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ( Donald Trump ) ইরানের শান্তি প্রস্তাব খারিজ করে কড়া বার্তা দিয়েছেন। তাঁর দাবি, যুদ্ধবিরতি এখন ‘লাইফ সাপোর্টে’ রয়েছে। শান্তি প্রস্তাবকে তিনি ‘এক টুকরো আবর্জনা’ বলেও মন্তব্য করেছেন। এর পর থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা আরও বেড়েছে। 

Continues below advertisement

বর্তমানে দেশের বিভিন্ন শহরে ১৪.২ কেজির গৃহস্থালি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম কোথায় কেমন —

১৪.২ কেজি গৃহস্থালি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম

শহরদাম (₹/সিলিন্ডার)
দিল্লি₹৯১৩
বেঙ্গালুরু₹৯১৫.৫০
হায়দ্রাবাদ₹৯৬৫
মুম্বই₹৯১২.৫০
চেন্নাই₹৯২৮.৫০
কলকাতা₹৯৩৯

১৯ কেজি বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম

শহরদাম (₹/সিলিন্ডার)
দিল্লি₹৩,০৭১.৫০
বেঙ্গালুরু₹৩,১৫২
হায়দ্রাবাদ₹৩,৩১৫
মুম্বই₹৩,০২৪
চেন্নাই₹৩,২৩৭
কলকাতা₹৩,২০২

আরও পড়ুন : আজ থেকেই বড় লাফ পেট্রোল ও ডিজেলের দামে, কলকাতায় কত? 

পাঁচ রাজ্যের ভোটপর্ব শেষ হতেই দেশজুড়ে বেড়েছে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম। এই সিদ্ধান্তের পরই কেন্দ্রের মোদি সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেছেন রাহুল গান্ধী ( Rahul Gandhi )। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি  লেখেন—“ভুল মোদি সরকারের, জনতা মূল্য চোকাবে। ৩ টাকার ঝটকা দিয়ে শুরু, বাকিটা কিস্তিতে হবে।” জ্বালানির দাম বৃদ্ধির জেরে নতুন করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে। 

এদিকে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের পাশে দাঁড়িয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) । তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণেই জ্বালানির দাম বাড়ছে এবং এই পরিস্থিতি ভারতের নিয়ন্ত্রণে নেই। দিলীপ ঘোষের বক্তব্য, “যুদ্ধ চলছে, যে কারণে দাম বাড়ছে। এটা আমাদের হাতে নেই। ভবিষ্যতের কথা ভেবে প্রস্তুতি নিতে হবে, সেটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আগেই ঘোষণা করেছেন। অনেকদিন পরে সরকার দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছে। বিশ্বজুড়ে যে সঙ্কট চলছে, তার থেকে আমরা আলাদা থাকতে পারি না।”

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে কেন্দ্রকে আক্রমণ করেছেন কংগ্রেস সাংসদ ইমরান মাসুদও। তাঁর দাবি, সাধারণ মানুষের উপর ধীরে ধীরে আরও বড় আর্থিক চাপ নামতে চলেছে। ইমরান মাসুদ বলেন, “এখন ধীরে ধীরে ঝটকা লাগবে। দেশকে ভুগতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর একটি আয়োজনেই যত খরচ হয়, সব মিলিয়ে ততটা এক বছরে হয় না।”