লখনউ : বাড়ির ভিতর থেকে বারবার ভেসে আসছিল আর্তনাদ— "বাঁচাও, বাঁচাও!" কিন্তু ঘন কালো ধোঁয়া আর ভয়াবহ আগুনের মধ্যে চাইলেও ঢোকা সম্ভব হয়নি বাড়ির লোকের। শেষ পর্যন্ত অসহায় চিৎকারগুলোও একটা সময় থেমে যায়... তরতাজা প্রাণগুলি ততক্ষণ শেষ। সোমবার লখনউর কোচিং সেন্টারে ঘটে যাওয়া এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের অধিকাংশই ছিলেন তরুণ ছাত্রছাত্রী । সকলেই অ্যানিমেশন ও গেমিং শিল্পে কেরিয়ার গড়ার স্বপ্ন নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল এক লহমায়।
বাথরুমে আশ্রয় নিয়েও রক্ষা হয়নি
আলিগঞ্জের সেক্টর-ডি এলাকার তিনতলা বাণিজ্যিক একটি আবাসনের বেসমেন্ট, গ্রাউন্ড ফ্লোর এবং প্রথম তলায় ছিল একটি পেট শপ ও ভেটেরিনারি ক্লিনিক। দ্বিতীয় তলায় ছিল 'লার্নিং স্পেস' নামে একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং 'হেড হপার স্টুডিও'। সেখানে থ্রিডি আর্ট প্রোডাকশনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হত। গ্রীষ্মের ছুটিতে বহু ছাত্রছাত্রী সেখানে অ্যানিমেশন শেখার ক্লাসে অংশ নিয়েছিলেন। একইসঙ্গে কয়েকজন তরুণ শিল্পী ও কর্মীও স্টুডিওতে কাজ করছিলেন।
হঠাৎ আগুন ছড়িয়ে পড়তেই দ্রুত ধোঁয়ায় ভরে যায় পুরো তলা। বের হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কয়েকজন ছাত্রছাত্রী প্রাণ বাঁচানোর মরিয়া চেষ্টায় একটি বাথরুমের ভিতরে আশ্রয় নেন। তাঁদের আশা ছিল, উদ্ধারকারী দল সময়মতো পৌঁছে যাবে। আটকে পড়া এক যুবক নাকি ফোন করে পরিবার ও বন্ধুদের জানিয়েছিলেন যে পাঁচ থেকে ছয়জন একটি বাথরুমের ভিতরে আশ্রয় নিয়েছেন এবং উদ্ধারকারীদের জন্য অপেক্ষা করছেন। কিন্তু অনেকের ক্ষেত্রেই সেই অপেক্ষার শেষ আর দেখা হয়নি।
আগুন থেকে বাঁচতে উপরতলা থেকে ঝাঁপ
বেরোতে না পেরে, এক ছাত্র আগুনের হাত থেকে বাঁচতে উপরতলা থেকে নিচে ঝাঁপ দেন। লোহার গ্রিলে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, নিচে দাঁড়িয়ে থাকা সকলেই তাঁকে সাহায্য করার চেষ্টা করেন। অন্যদিকে বাড়ির ভিতরে আটকে পড়া সকলেই বেরিয়ে আসার মরিয়া লড়াই চালাচ্ছিল। কীভাবে আগুন লাগল, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, নিচ তলার কোনও অফিস থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে উপরে। শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা এলাকায়।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন বহুতলের মালিক বীরেন্দ্র শুক্লা, কোচিং সেন্টারের পরিচালক কৃষ্ণা জয়সওয়াল এবং একটি পেট (PET) শপের মালিক রামকৃষ্ণ উপাধ্যায়। লখনউয়ের গতকালের অগ্নিকাণ্ডে পড়ুয়া সহ ১৫ জনের মৃত্য়ু হয়। এই ঘটনায় উত্তরপ্রদেশ সরকারের ৪ জন আধিকারিককে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্তের জন্য ২ সদস্যের SIT গঠন করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, AC বিস্ফোরণের জেরেই এই অগ্নিকাণ্ড।
