নয়াদিল্লি: দিল্লিতে লাল কেল্লা মেট্রো স্টেশনের বাইরে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ। মৃত্যু হয়েছে বেশ কয়েকজনের। জখম বহু। বিস্ফোরণের জেরে আগুন ধরে যায় একের পর এক গাড়িতে। পিছনে কি নাশকতা? উঠছে প্রশ্ন। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও জঙ্গি সংগঠন দায় স্বীকার করেনি। হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে একাধিক রাজ্যে। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, এই ঘটনায় মৃত্য হয়েছে ১০ জনের। আহত হয়েছে ৩০ জনেরও বেশি সাধারণ মানুষ। তাঁদের মধ্যে একাধিকের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
সন্ধে হতে না হতেই জোরাল বিস্ফোরণ ঘটল লালকেল্লার কাছে। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, আজই সকালে দিল্লির অদূরে ফরিদাবাদে মেলে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক। মেলে একাধিক পিস্তল এবং একে ৪৭ রাইফেল। কিছুদিন আগে শ্রীনগরে পাকিস্তানি জঙ্গিগোষ্ঠী জইশ-ই-মহম্মদের সমর্থনে পোস্টার সাঁটার অভিযোগে এক চিকিৎসককে গ্রেফতার করে কাশ্মীর পুলিশ। তাকে জেরা করেই দিল্লির অদূরে ফরিদাবাদে বিস্ফোরক মজুতের হদিস পাওয়া যায়। এখন প্রশ্ন হল, প্রায় ৩ হাজার কেজি বিস্ফোরক মজুত করা হয়েছিল কেন? আরও বড় কোনও নাশকতার উদ্দেশে? কোথায়? কবে? তা-ই এখন জানা চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
আর দিল্লির এই ঘটনায় শোকপ্রকাশ করে এক্স (সাবেক ট্যুইট) করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি লিখেছেন, 'দিল্লিতে বিস্ফোরণের ঘটনায় বাকরুদ্ধ, শোকাহত। যাঁরা পরিবারের প্রিয়জনকে হারালেন, তাঁদের প্রতি আমার সমবেদনা। যাঁরা এই ঘটনায় আহত হয়েছে, তাঁদের প্রত্যেকের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি।' অন্যদিকে, এই বিষয়ে ইতিমধ্যেই জরুরি কথাবার্তা হয়েছে নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) আর অমিত শাহের (Amit Shah) মধ্যে। এখনও পর্যন্ত কোনও দেশ এই নাশকতার দায়িত্ব গ্রহণ করেনি।
দিল্লি বিস্ফোরণের এক প্রত্যক্ষদর্শী বলছেন, 'এই তো পিছনেই আমার দোকান। চেয়ারে বসেছিলাম, হঠাৎ ভীষণ জোরে বিস্ফোরণের শব্দ। এত জোরে শব্দ জীবনে শুনিনি। ৩ বার চেয়ার থেকে পড়ে গিয়েছিলাম। উঠে আওয়াজ লক্ষ্য করে ছুটলাম। এক মুহূর্তের জন্য মনে হয়েছিল, বাঁচব না। মৃত্যুকে ভীষণ সামনে থেকে দেখলাম। এত আতঙ্কিত হয়ে গিয়েছিলাম, বুঝতে পারছিলাম না কী করা উচিত। অনেতে আমায় ধরে, জল দিয়ে শান্ত করেন।' আরেক প্রত্যক্ষদর্শী বলছেন, 'ছাদ থেকে আগুন দেখে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসি। ভীষণ জোরে বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছিলাম। বাড়ির কাচ নড়ছিল। ছুটে নীচে এসে দেখি, ভয়াবহ অবস্থা।'