অন্ধ্রপ্রদেশ: ভারতে ফের ফিরছে করোনা? অন্ধ্রপ্রদেশের কডাপা জেলায় এক ব্যক্তি কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। গত মাসে তাঁকে ভেলোরের সিএমসি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল এবং চার দিন চিকিৎসার পর তিনি মারা যান। পাশাপাশি আরও এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে এবং আরও চারজনের শরীরে এই ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য আধিকারিকরা জানিয়েছেন, তাঁর দুটি ফুসফুসই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রোগীকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে এবং স্বাস্থ্য বিভাগ এখন তার সংস্পর্শে আসা সব ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে। এলাকাটিকে জীবাণুমুক্তকরণের কাজও শুরু করা হয়েছে।

Continues below advertisement

এই মৃত্যুর পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। জানা গিয়েছে, কডাপাও তিরুপতি জেলায় পাঁচটি নতুন কোভিড-১৯ কেস শনাক্ত হয়েছে। চিকিৎসা শিক্ষা দফতর (ডিএমই) রাজ্যজুড়ে সরকারি হাসপাতালগুলিকে আইসোলেশন বেড, ICU বেড, অক্সিজেন সরবরাহ, ভেন্টিলেটর, ওষুধপত্র, র‍্যাপিড টেস্ট কিট, অ্যাম্বুলেন্স এবং চিকিৎসা কর্মীদের প্রাপ্যতার বিবরণ জমা দিতে বলেছেন।

ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন বাড়িতে আইসোলেশনে রয়েছেন, আর চতুর্থজন, যাঁর মৃদু উপসর্গ রয়েছে, তাঁকে কডাপার একটি স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সূত্রের খবর, “রোগীকে হাসপাতালের কোভিড-১৯ বিশেষ ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।” সূত্রের খবর, “কডাপা ভাইরোলজি ল্যাবরেটরিতে করা আরটি-পিসিআর (RT-PCR) পরীক্ষায় চারজন রোগীরই কোভিড-১৯ পজিটিভ এসেছে, এই চারজন পজিটিভ রোগী কাডাপার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। তাঁরা কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের দুটি ডোজ নিয়েছিলেন এবং তাঁদের মধ্যে একজন বুস্টার ডোজও নিয়েছিলেন।”

Continues below advertisement

কোভিড-১৯ এ মৃত্যুর হার কত ?

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের শেষ নাগাদ ভারতে প্রায় ৫ লাখ ৩০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে কোভিড-১৯ এ। তবে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-র অনুমান অনুযায়ী, এই মহামারির কারণে দেশে প্রায় ৪৭ লক্ষের মৃত্যু হয়েছে। বিশ্বব্যাপী প্রায় ৬৬ থেকে ৬৭ লক্ষ সরকারিভাবে নথিভুক্ত থাকা মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত মাসেই হাজির হয়েছিল করোনা ভাইরাসের নতুন এক ভ্যারিয়েন্ট। বিএ.৩.২ বা 'সিকাডা' হলো ওমিক্রন-এর একটি উপ-বংশ। গবেষকদের মতে, 'Cicada' একটি পোকামাকড়ের নাম, যা দীর্ঘ সময় মাটির নিচে থাকার পর হঠাৎ করে বেরিয়ে আসে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই ভ্যারিয়েন্টে বিপুল সংখ্যক মিউটেশন একত্রিত হয়ে এটিকে আরও স্বতন্ত্র করে তুলেছে। এতে আনুমানিক ৭০-৭৫টি মিউটেশন থাকতে পারে, যার বেশিরভাগই 'স্পাইক প্রোটিনে' রয়েছে। ভাইরাসের এই অংশটিই মানুষের শরীরের কোষে প্রবেশ করতে পারে 

উপসর্গগুলো কী কী ?বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন এই ভ্যারিয়েন্টেও উপসর্গগুলো 'ওমিক্রন' ভ্যারিয়েন্টগুলোরই মতোই।১. এমনি জ্বর বা হঠাৎ কাঁপুনি দিয়ে জ্বর।   ২. কাশি। কখনও কখনও তীব্র কাশি। ৩. গলা ব্যথা।৪. ক্লান্তি এবং শরীরে ব্যথা। ৫. প্রচণ্ড মাথা ব্যথা। ৬. নাক দিয়ে জল পড়া বা নাক বন্ধ হয়ে থাকা। ৭. শ্বাসকষ্ট হওয়া। ৮. চোখ থেকে জল পড়া বা চোখ জ্বালা করা। ৯. বমি বমি ভাব বা হজমের সমস্যা। ১০. ত্বকে ফুসকুড়ি হওয়া।অনায়াসে।