নয়াদিল্লি: নতুন করে উত্তপ্ত মণিপুর। সেখানে রকেট হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ। হামলায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর তাতেই নতুন করে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে উত্তর-পূর্বের রাজ্যটিতে। আবারও রাস্তায় নেমেছেন প্রতিবাদী মানুষজন। পর পর তেলের ট্যাঙ্কার জ্বালিয়ে দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। এমন পরিস্থিতিতে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কার্ফু জারি করা হয়েছে একাধিক জায়গায়। আবার CRPF-এর বিরুদ্ধেও গুলি চালানোর অভিযোগ উঠছে। হতাহত বাড়ছে সেখানে। (Manipur Violence)

Continues below advertisement

ইম্ফল ইস্ট, ইম্ফল ওয়েস্ট, থুবাল, কাকচিং এবং বিষ্ণুপুরে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে আগামী তিন দিন। কার্ফু জারি হয়েছে বিষ্ণুপুরে। মধ্যরাতের পর সেখানেই রকেট হামলা হয় বলে অভিযোগ। রাজ্য প্রশাসসনের দাবি, ভুয়ো খবর গুজব রুখতে এবং আইন-শৃঙ্খলা ধরে রাখতেই এমন পদক্ষেপ। মঙ্গলবার দুপুর থেকে জারি হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। (Manipur News)

মধ্য়রাতের পর বিষ্ণুপুরের ময়রাংয়ের ত্রোংলাওবি আওয়াং লিকাই এলাকায় রকেট হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। রাত ১টা বেজে ৫ মিনিটে হামলা হয় বলে জানা গিয়েছে। একটি বাড়িতে আছড়ে পড়ে ওই রকেট। সেই সময় ঘুমিয়ে ছিল ৫ বছর বয়সি এক বালক এবং তার ৫ মাস বয়সি বোন। হামলায় দু’জনই মারা গিয়েছে। আহত হয়েছেন ওই দুই শিশুর মা। বেসরকারি হাসপাতালের ICU-তে ভর্তি রয়েছেন তিনি। 

Continues below advertisement

ওই দুই শিশুর বাবা CISF-এ কর্মরত বলে জানা গিয়েছে। এই মুহূর্তে বিহারে মোতায়েন রয়েছেন তিনি। শিশু দু’টির মা গুয়াহাটিতে নার্স হিসেবে কর্মরত। একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসেছিলেন। 

কুকি এবং মেইতেইদের সংঘর্ষে বরাবরই তপ্ত ময়রাং। সেখানেই গতকাল রাতে রকেট হামলা হয় বলে অভিযোগ। উঁচু এলাকা থেকে সমতলে হামলা হয় বলে দাবি স্থানীয়দের। গোটা ঘটনায় আতঙ্ক ছড়ায় এলাকায়। বিষয়টি জানাজানি হতে সকাল থেকে উত্তেজনা, হিংসা ছড়িয়ে পড়ে। রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভের পেট্রোল পাম্পের কাছে পর পর দাঁড়িয়ে থাকা তেলের ট্যাঙ্কার, ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।  

এদিন ময়রাং থানার কাছে রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়েও বিক্ষোভ দেখান অনেকে। পুলিশের একটি অস্থায়ী শিবিরে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ সামনে এসেছে। বিষ্ণুপুর এবং চূড়াতাঁদপুর সীমানার কাছে CRPF-এর ক্যাম্পে ঢুকে পড়েন অনেকে। নিরাপত্তাবাহিনী ধোঁয়া ছড়ানোর বোমা ফাটায়। গুলি চালানোর অভিযোগও এসেছে, তাতে কমপক্ষে ১৯ জন আহত হয়েছেন বলে খবর। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একজন মারা গিয়েছে বলেও দাবি করেছেন স্থানীয়রা। এমন পরিস্থিতিতে সেখানে বাড়তি পুলিশ ও বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে, চলছে টহলও। বিধিনিষেধ আরোপের পর সাংবাদিকরা পর্যন্ত ওই এলাকায় পৌঁছতে পারছেন না।

পুলিশ জানিয়েছে, গতকাল গভীর রাতে বিস্ফোরণ ঘটে। তল্লাশি চালাতে গিয়ে আরও একটি বিস্ফোরক ভর্তি ডিভাইস পাওয়া গিয়েছে। মণিপুরের মুখ্য়মন্ত্রী এন বীরেন সিংহ গোটা ঘটনার নিন্দা করেছেন। তিনি লেখেন, ‘ময়রাং ত্রোংলাওবিতে দুর্ভাগ্যজনক হামলায় দুই শিশুর মৃত্যুতে ব্যথিত। নিরীহ নাগরিকদের উপর এমন বর্বরোচিত হামলা নিন্দনীয়’। দোষীদের চিহ্নিত করে কড়া পদক্ষেপ করা হবে বলে সকলকে আশ্বস্ত করেছেন তিনি। কিন্তু গোটা ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।

যে এলাকায় রকেট হামলা হয়েছে, তাও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যে গ্রামে রকেট আছড়ে পড়েছে, সেটি পাহাড়ি এলাকার কাছাকাছি।  ২০২৩ এবং ২০২৪ সালে যখন কুকি এবং মেইতেইদের মধ্য়ে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ বাধে, সেই সময় ওই গ্রামের মানুষদের উপরও আঁচ পড়ে। নিকটবর্তী এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর লোকজনের আনাগোনাও রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে যে, কয়েক কিলোমিটার দূর থেকে রকেটটি ছোড়া হয়। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।