ইনদৌর : মেঘালয়ে হানিমুনে হাড়হিম করা হত্য়াকাণ্ড। স্বামী রাজা রঘুবংশীকে খুনে অভিযুক্ত হলেন খোদ নববিবাহিত স্ত্রী সোনম রঘুবংশী। সোনম ও তার প্রেমিক রাজ কুশওয়াহা-সহ ৫ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। শিলং পুলিশ সূত্রে খবর, সোনম এবং রাজ কুশওয়াহা রাজাকে খুনের পরিকল্পনা করে। রাজই ভাড়াটে খুনি ঠিক করে। তারপর সোনমের অঙ্গুলিহেলনেই কাজ করে তারা। মেঘের রাজ্যে কতটা নৃশংস ভাবে মারা হয়েছে রাজা রঘুবংশীকে , সবটাই উঠে এসেছে পোস্ট মর্টেম রিপোর্টে । তা এককথায় হাড়হিম করা। 

রাজা রঘুবংশীর পোস্টমর্টেম রিপোর্টে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। রিপোর্টে প্রকাশ,  রাজা রঘুবংশীর মাথায় ধারালো বস্তু দিয়ে দুবার আঘাত করা হয়েছিল। সোমবার তার পোস্টমর্টেম রিপোর্টে উল্লেখ, রাজার মাথায় কাটা দাগ পাওয়া গেছে। পূর্ব খাসি পাহাড় জেলার পুলিশ সুপার বিবেক সায়েম পিটিআইকে জানান, রাজা রঘুবংশীর মৃতদেহ খাদ থেকে তোলার পরই তার মাথায় আঘাত গুলি খেয়াল করে পুলিশ।   তার মাথায় দুটি কাটা দাগ দেখতে পাওয়া যায়। নর্থ ইস্টার্ন ইন্দিরা গান্ধী রিজিওনাল ইনস্টিটিউট অফ হেলথ অ্যান্ড মেডিকেল সায়েন্সেস (এনইজিআরআইএইচএমএস) -এ রাজার দেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে।  পুলিশ সুপার বিবেক সায়েম বলেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্টে দেখা গেছে যে মৃত ব্যক্তির মাথায় দুটি গভীর ক্ষত রয়েছে। একটি পিছনে এবং একটি সামনে। 

১১ মে ২৯ বছরের রাজার সঙ্গে বিয়ে হয় ২৪-এর সোনমের। এরপর ২০ মে হানিমুনে মেঘালয় পাড়ি দেন যুগলে। ২৩ মে শেষবার পরিবারের সঙ্গে কথা হয়। তারপর থেকেই আর খোঁজ মিলছিল না। কিছু একটা অঘটনের আশঙ্কার মধ্যেই ২ জুন হোমস্টে থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে একটি গভীর খাদ থেকে রাজা রঘুবংশীর মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সঙ্গে পাওয়া যায় একটি রক্তমাখা দা ও কালো রেনকোট । যে হোম স্টে-তে নবদম্পতি ছিলেন, সেখানকার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সোনম ওই রেনকোট পরে আছে।  তখনও কোনও খোঁজ মেলেনি সোনমের। রাজার দেহ থেকেও পাওয়া যায় সোনার আংটি, গলার হার।  এরপর থেকেই সোনমকে অপহরণের আশঙ্কা জোরালো হয়। তাঁর বাড়ির লোক সন্দেহপ্রকাশ করে, বাংলাদেশে পাচার করা হয়ে থাকতে পারে সোনমকে।  এরমধ্যে ৭ জুন মেঘালয় পুলিশের  হাতে আসে এক গুরুত্বপূর্ণ ক্লু। পুলিশ সূত্রে খবর,  স্থানীয় এক ট্যুর গাইড জানান, তিনি ২৩ তারিখ সকালে রাজা-সোনমকে দেখেছিলেন। সঙ্গে ছিলেন আরও তিন জন। তাঁরা হিন্দিতে কথা বলছিলেন। ফলে তাঁরা যে স্থানীয় কেউ নন স্পষ্ট হয়ে যায়। অপরিচিত ওই হিন্দিভাষী ওই তিন জনের খোঁজে ইনদৌরে যায় পুলিশ। খুনের কিনারা করার চেষ্টা চলছিল জোরকদমে। এরপর  রবিবার রাতে কার্যত এক ভিডিওকলে নিজেই নিজেকে ধরিয়ে দেয় সোনম। তার সঙ্গে গ্রেফতার করা হয় সোনমের সম্ভাব্য-প্রেমিক সহ আরও ২ জনকে ।

তদন্তকারীদের অনুমান,  নেপথ্যে রয়েছে সোনমের পুরনো প্রেম। ইনদৌরের ব্যবসায়ী রাজা রঘুবংশীর সঙ্গে বিয়ে হলেও প্রেমিক নিজের থেকে ৩ বছরের ছোট ২১ বছরের রাজ কুশওয়াহার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেননি সোনম। পুলিশের সন্দেহ, পথের কাঁটা স্বামীকেসরাতেই খুনের ছক কষেন সোনম-রাজ। সেই অনুযায়ী প্ল্যান করে ফেলেন কোথায় বেড়াতে যাবেন, কীভাবে উদ্দেশ্য সাধন করা হবে।