শিলং: হানিমুনে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন নবদম্পতি। কয়েকদিনের মধ্যেই উদ্ধার হল ইনদৌরের যুবকের মৃতদেহ। কিন্তু কোথায় গেলেন স্ত্রী সোনম? তিনি কি বেঁচে আছেন? তিনি কি কোনও বড় বিপদে? নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল সকলের মনে। পরিবারের অভিযোগ ছিল, হয়ত কোনও চক্র বাংলাদেশে পাচার করে দিয়েছে তাদের মেয়েকে। এবার রাজা রঘুবংশী হত্যা মামলায় বড় সাফল্য পেল মেঘালয় পুলিশ ।  পুলিশ তার স্ত্রী সোনম সহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। মেঘালয় পুলিশের ডিজিপি জানিয়েছেন , হানিমুনে আসা যুবক রাজা রঘুবংশীকে হত্যায় জড়িয়ে তাঁর স্ত্রী সোনমও। সে-ই স্বামীকে খুল করার জন্য খুনি ভাড়া করেছিল। জানা গিয়েছে, উত্তরপ্রদেশের গাজিপুর থেকে স্ত্রী সোনম রঘুবংশীকে খুঁজে পায় পুলিশ। গত  ১৭ দিন তাঁর খোঁজ ছিল না। গাজীপুরে নন্দগঞ্জ থানা এলাকার একটি ধাবা থেকে সোনম রঘুবংশীকে খুঁজে পায় পুলিশ। তারপর পুলিশ তাঁকে জেলা হাসপাতালে পাঠায়। প্রাথমিক চিকিৎসা এবং চেকআপের পর, তাঁকে ওয়ান স্টপ সেন্টারে রাখা হয়। 

শনিবার (৭ জুন, ২০২৫) একজন ট্যুর গাইড জানিয়েছিলেন, ইনদৌর থেকে আসা সদ্য বিবাহিত দম্পতি রাজা রঘুবংশী এবং তার স্ত্রী সোনম যখন মেঘালয়ের সোহরা এলাকা থেকে নিখোঁজ হন, তখন তাদের সঙ্গে আরও তিন জন উপস্থিত ছিলেন। গাইডের কাছ থেকে পাওয়া এই তথ্যই তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। 

মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড কে সাংমা টুইট করে জানিয়েছেন, ইনদৌরের যুবক রাজার হত্যা মামলায় মেঘালয় পুলিশ একটি বড় সাফল্য অর্জন করেছে। এই ঘটনায়, মধ্যপ্রদেশের তিন জন দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করা হয়েছে, । স্ত্রী সোনম নিজেই আত্মসমর্পণ করেছেন।  অন্য একজন আক্রমণকারীকে গ্রেফতারের অভিযান এখনও চলছে। 

এনডিটিভির রিপোর্ট অনুযায়ী,  ভাকুপর বনশাই নামের স্থানীয় এক ট্যুর গাইড পুলিশকে জানান,  মাওলাখিয়াত থেকে নোনগ্রিয়াট পর্যন্ত ট্রেকিংয়ে তিনিই নিয়ে গিয়েছিলেন দম্পতিকে। প্রায় তিন ঘণ্টা সময় লেগেছিল। এরপর তাঁরা হোমস্টেতে ফিরে যান। পরদিন তাঁরা গাইড নিতে চাননি। বলেছিলেন,এই রাস্তা তাঁদের চেনা। সেদিনই শেষ যখন তাঁদের দেখা যায় সঙ্গে ছিল আরও তিন পুরুষ। এরা কারা, এই প্রশ্নটাই খেলে যায় পুলিশের মাথায়। আরও চুলচেরা তদন্ত শুরু হয়।

এই ঘটনা গত কয়েকদিন ধরে পর্যটন ক্ষেত্র হিসেবে মেঘালয়ের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। এবার সামনে এল পুলিশের এই চাঞ্চল্যকর দাবি। কিন্তু কেন খুন করলেন সোনম। এখনও জানা যায়নি। 

সম্প্রতি, সোনম রঘুবংশীর মা এই ঘটনার সিবিআই তদন্ত দাবি করেন।  বলেন, "আমরা চাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সিবিআই তদন্ত শুরু হোক যাতে আমার মেয়ে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বাড়ি ফিরে আসতে পারে। আমরা আশা করছি যে এখন কিছু জানা যাবে কিন্তু কিছুই জানা যাচ্ছে না। আমরা চাই আমাদের মেয়েকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব খুঁজে পাওয়া যাক।" মা আকুল হয়ে বলেন, পরিবারের সদস্যরা মেয়ের সম্পর্কে কিছু তথ্য পেতে টিভির সামনে বসে আছেন, কিন্তু কোনও খবর পাওয়া যাচ্ছে না।