মেঘালয়ের মধুচন্দ্রিমায় গিয়ে কীভাবে গায়েব হয়ে গেলেন দম্পতি ? ইনদৌরের যুবকের দেহ উদ্ধার হতে আরও বাড়ে রহস্য। পর্যটনস্থলে কে খুন করল তাঁকে ? কেন এমন দুর্গম রাস্তা, ঘন শুনসান জঙ্গলে, কোনও গাইড ছাড়াই গিয়েছিলেন নবদম্পতি? রাজাকে খুন করে কি তাঁর স্ত্রীকে লোপাটই করে দেওয়া হল? একাধিক সন্দেহ দানা বাঁধছিল। পাশাপাশি সামনে আসছিল সোনমের পরিবারের কয়েকটি চাঞ্চল্য কর দাবি। এরই মধ্যে পরিবারের লোকজনকে একটি ফোন করেন সোনম। সেই ফোনেই ঘটে অপরাধের পর্দাফাঁস।
সোমবার সকালেই তদন্তে সাফল্যের কথা জানায় পুলিশ। স্পষ্ট করে দেওয়া হয়, ইনদৌরের যুবককে ভাড়াটে খুনিদের দিয়ে হত্যা করিয়েছে তাঁর স্ত্রীই। সোমবার উত্তর প্রদেশের গাজিপুর থেকে পাওয়া যায় ২৪ বছর বয়সী সোনমকে। ইন্ডিয়া টুডে টিভিতে প্রকাশ, পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে জানা গিয়েছে, রাজ কুশওয়াহা নামে অন্য একজনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল সোনমের। কিন্তু বিয়ে হয় রাজা রঘুবংশীর সঙ্গে। অভিযোগ, এরপরই সেতার স্বামীকে হত্যার ষড়যন্ত্র করে ফেলে । মেঘালয়ের হানিমুনে গিয়েই যে প্রাণে মেরে ফেলা হবে রাজাকে, তার নীল-নকশাও করে ফেলা হয়। এরপর কয়েকদিন একসঙ্গে কাটানোর পর মনোরম অঞ্চল সোহরায় গিয়ে রাজাকে মেরে খাদে ফেলে দেওয়া হয়। নিখোঁজ হওয়ার কয়েকদিন পরই তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। পুলিশের দাবি, এই কাজটি করাতে মধ্যপ্রদেশ থেকে কন্ট্রাক্ট কিলারদের ভাড়া করেছিল সোনম।
গত মাসে নবদম্পতি মেঘালয়ে হানিমুনে আসেন। ২৩ মে থেকে নিখোঁজ ছিলেন তাঁরা । এরপর একজন ট্যুরিস্ট গাইডের বয়ানে সন্দেহ হয় পুলিশের। তিনি জানান, নবদম্পতিকে শেষবার যখন দেখা গিয়েছিল, সঙ্গে ছিল আরও তিনজন পুরুষও। ঘটনার প্রায় ১০ দিন পর, ২ জুন, রাজার মৃতদেহ উদ্ধার হয়। সোনমের তখন কোনও খোঁজ মেলেনি। সকলে নানারকম খারাপ আশঙ্কা করতে থাকেন। এমনকী বাড়ির লোক আশঙ্কা প্রকাশ করে,তাদের মেয়েকে বাংলাদেশে পাচার করে দেওয়া হয়নি তো ? এই সব জল্পনার মধ্যে তদন্তের বিরাট সূত্র মেলে, সোনমের একটি ফোন থেকে। অতি সম্প্রতি গাজীপুর থেকে সোনম তার পরিবারকে একটি ফোন করে বলে জানা যায়। খবর ইন্ডিয়া টুডে-তে। সেই সূত্র ধরে তদন্ত এগোতেই আসে সাফল্য । ধাপে ধাপে পুরো বিষয়টা এক্কেবারে পরিষ্কার হয়ে যায় পুলিশের কাছে। পরিবার ফোন পাওয়ার কথা ইনদৌর পুলিশকে জানায়। তখনও তারা বোঝেনি এই অপরাধে নাটের গুরু তাদের মেয়েই। এরপরই পুলিশ তাকে গাজীপুর থেকে থুঁজে বের করে ও গ্রেফতার করে। কারণ তদন্তে তখন পরিষ্কার স্বামীকে সরিয়ে দেওয়ার প্ল্যান ছিল সোনমেরই। সেই অনুসারে সে-ই ভাড়াটে খুনিদের কাজে লাগায়।পুলিশ তার স্ত্রী সোনম সহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। মেঘালয় পুলিশের ডিজিপি জানিয়েছেন , হানিমুনে আসা যুবক রাজা রঘুবংশীকে হত্যায় জড়িয়ে তাঁর স্ত্রী সোনমও। সে-ই স্বামীকে খুন করার জন্য খুনি ভাড়া করেছিল।