দিল্লি: ফেসবুক থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভিডিও সরিয়ে ফেলার পর যে বিতর্ক শুরু হয়েছিল, তা এখন মেটার জন্য একটি আইনি ও নীতিগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। Meta কর্ণধার মার্ক জাকারবার্গকে ক্ষমা চাইতে হবে বলে জানিয়েছিল কেন্দ্রের বিশেষ সংসদীয় কমিটি। ক্ষমা চাওয়ার জন্য তিনদিনের সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু, সরকারি সূত্র অনুযায়ী, ভারত সরকারের সঙ্গে একটি বৈঠকে মেটা সিএসএএম (CSAM), ডিপফেক কনটেন্ট এবং প্ল্যাটফর্মটির ত্রুটিবিচ্যুতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে।
প্রধানমন্ত্রী মোদির ভিডিও ডিলিট নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থা মেটা তাদের ভুল স্বীকার করেছে এবং ভারত সরকারের কাছে ক্ষমা চাইলেন মেটা সিইও। সরকারি সূত্র অনুযায়ী, সংস্থাটি শিশু যৌন নির্যাতনমূলক সামগ্রী (CSAM), ডিপফেক কন্টেন্ট ছড়ানো এবং তাদের প্ল্যাটফর্ম পরিচালনায় ত্রুটির জন্য ক্ষমা চেয়েছে। এই CSAM-এর অর্থ হলো শিশু যৌন নির্যাতন সামগ্রী, অর্থাৎ শিশুদের যৌন শোষণ চিত্রিত করে এমন ছবি বা ভিডিও। বুধবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গে মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থা মেটার শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠক হয়। এরপর সরকারি সূত্র মারফত জানা গিয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ফেসবুক পোস্ট সাময়িকভাবে সরিয়ে ফেলার ঘটনায় মেটা ক্ষমা চেয়েছে। পাশাপাশি, শিশু-যৌন নিগ্রহ সংক্রান্ত বিষয়বস্তু ও 'ডিপফেক'-এর মতো বিষয় সামলানোয় ব্যর্থতা এবং মোটা অর্থের বিনিময়ে নির্দিষ্ট কিছু বিষয়বস্তু 'বুস্ট' বা প্রচার করার মতো বিষয় নিয়েও সংস্থাটি তাদের ব্যর্থতা স্বীকার করেছে এবং ক্ষমাও চেয়েছে। ভারতীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের জন্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা মেটার গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স প্রধান জোয়েল কাপলান এক লিখিত বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, প্রধানমন্ত্রী মোদীর পোস্ট ডিলিট করার ভুলের জন্য তিনি মেটার পক্ষ থেকে মোদির কাছে ক্ষমা চাইছেন; তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারি সূত্রগুলোর দাবি, এই ক্ষমা প্রার্থনার বার্তাটি এসেছিল খোদ সংস্থার প্রধান কর্তা মার্ক জাকারবার্গের পক্ষ থেকেই।
সরকার কী বলল?সরকার এই বৈঠকে সংস্থাকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, মেটা কোনোভাবেই 'মধ্যস্থতাকারী' সংজ্ঞার আওতায় পড়ে না। সরকারের যুক্তি হল, কোন কনটেন্ট কোন ব্যবহারকারীর কাছে পৌঁছাবে এবং কোনটি পৌঁছাবে না, সেই সিদ্ধান্ত কোম্পানি নিজেই নেয়। সুতরাং, আইটি আইনের অধীনে উপলব্ধ সেফ হারবার সুরক্ষা মেটার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। সরকারি সূত্র অনুযায়ী, এই বৈঠকে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, যে কোন পোস্ট কাকে দেখানো হবে, কে বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাবে এবং কে পৌঁছাবে না, সেই সিদ্ধান্ত মেটা নিজেই নেবে। সরকারের যুক্তি হলো, যদি কোনো কোম্পানি অ্যালগরিদমের মাধ্যমে কনটেন্টে প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ করে এবং বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে তা আরও প্রসারিত করে, তবে সেটি আর কেবল একটি নিষ্ক্রিয় মধ্যস্থতাকারী থাকে না। এর ভিত্তিতে সরকার জানায়, শুধু ‘আমরা একটি প্ল্যাটফর্ম’ বললেই দায় এড়ানো যায় না। কেন্দ্র সরকার আরও জানিয়েছে যে, ভারতে কাজ করতে চাইলে ভারতীয় আইন মেনে চলতে হবে। বৈঠকে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের কথিত অপব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। সরকার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভিডিও ডিলিটের বিষয়টিও উত্থাপন করে। এছাড়াও, প্ল্যাটফর্মগুলিতে আপত্তিকর এবং অশালীন বিষয়বস্তু ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টিও উত্থাপন করা হয়।
