নয়াদিল্লি: মাঝ আকাশে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিল যাত্রীবাহী বিমান। অবশেষে আলাস্কায় বরফের স্তূপের মধ্যে খোঁজ মিলল সেটির। ন'জন যাত্রী এবং এক পাইলটকে নিয়ে আকাশে উড়েছিল বিমানটি। সেটির খোঁজ মিলেছে বলে জানিয়েছে আমেরিকার উপকূল রক্ষী বাহিনী। তবে ১০ জনের কেউই বেঁচে নেই বলে জানা গিয়েছে। বিমানের ধ্বংসস্তূপ থেকে দেহ উদ্ধারের কাজ চলছে এই মুহূর্তে। (Missing Alaska Plane)
বৃহস্পতিবার দুপুরে ১০ জনকে নিয়ে আকাশে উড়েছিল ছোট আকারের Bering Air Passanger বিমানটি। ইয়ুনালাকলিট থেকে নোম যাচ্ছিল বিমানটি। আকাশে ওড়ার পর আচমকা বিপত্তি দেখা দেয়। মাটি থেকে ক্রমশ উচ্চতা বাড়ছিল বিমানটির। একই সঙ্গে কমে আসছিল গতি। এর পরই বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সেটি ভেঙে পড়েছে বলেই জানা যায় সেই সময়। (Bering Air Passenger Plane)
বিমানটির খোঁজে তল্লাশি অভিযান শুরু হয় সঙ্গে সঙ্গে। কিন্তু ঘন কুয়াশা, তীব্র ঠান্ডা এবং তুষারপাতের জেরে ব্যাহত হয় উদ্ধারকার্য। একধাক্কায় কমে যায় দৃশ্যমানতাও। সেই আবহেই তল্লাশি অভিযান শুরু হয় নোম থেকে টপকোকে। আমেরিকার উপকূলরক্ষী বাহিনী আকাশপথ থেকে নজরদারি চালায়। এর পর দৃশ্যমানতার সামান্য উন্নতি হয়। তাতেই ন্যাশনাল গার্ড এবং উপকূলরক্ষী বাহিনীর হেলিটপ্টার বিমানের ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কার করে।
আলাস্কার নোম শহরের ৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে বিমানটির ধ্বংসাবশেষের হদিশ মেলে। Bering Air Passanger Cessna 208B Grand Caravan বিমানটিতে সওয়ার সকল যাত্রীই প্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন। বিমানের ধ্বংসাবশেষের সামনের অংশ থেকে প্রথমে তিন জনের দেহ খুঁজে পাওয়া যায়। বাকি সাত জনের দেহের কাছে পৌঁছতে সময় লাগে। আমেরিকার উপকূলরক্ষী বাহিনী জানিয়েছে, বিমানে সওয়ার প্রত্যেকেই মারা গিয়েছেন। তাঁদের পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন আলাস্কার গভর্নর মাইক ডানলেভি। এই দুর্ঘটনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলে জানিয়েছেন তিনি। এই ঘটনায় দেশের বিমান পরিবহণে ব্যবস্থায় খামতি রয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে। কারণ গত সপ্তাহেই দু'-দু'টি বিমান দুর্ঘটনা ঘটে আমেরিকায়। এমনকি মাঝ আকাশে যাত্রীবাহী বিমানের সঙ্গে সেনার হেলিকপ্টারের ধাক্কা লাগার ঘটনাও ঘটে। তাতে ৬৭ জন মারা যান। পর পর এমন ঘটনায় উদ্বিগ্ন দেশবাসী।