দিল্লি : মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার কারণে বিশ্বজুড়ে বহু ক্ষেত্রে সঙ্কট দেখা দিয়েছে। মূল্যবৃদ্ধি, গ্যাস-এর সঙ্কট পাশপাশি আরও বহু জিনিস নিয়ে সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ। আর এর মধ্যেই দেশবাসীর উদ্দেশ্যে ফের জ্বালানি খরচ কমানোর আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সোমবার নাগরিকদের উদ্দেশে তিনি জানান, করোনাকালের কথা স্মরণ করে যেভাবে অনলাইন ক্লাস ও ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ চালু হয়েছিল, আবারও এগুলোকে কাজে লাগানো যেতে পারে।

Continues below advertisement

ভারতে মোট যা জ্বালানি ব্যবহার হয় তার প্রায় ৫৯ শতাংশ শুধু পরিবহন খাতে ব্যবহৃিত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, অফিস, স্কুল যদি ওয়ার্ক ফ্রম হোম ও অনলাইন ক্লাস এবং ভ্রমণ করা যদি কমিয়ে দেওয়া হয়। এই সমস্ত কিছু যদি ভার্চুয়ালি করা যায়, তাহলে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ লিটার জ্বালানি ব্যবহার কমানো সম্ভব হবে।            আরও পড়ুন - গ্যাসের পর রান্নার তেলেও সঙ্কট ? ব্যবহার কমাতে বললেন মোদি, এর বিকল্প কী ?

বর্তমান দিনে ভার্চুয়াল যোগাযোগ এবং দূর থেকে কাজ করা, অর্থাৎ ওয়ার্ক ফ্রম হোম এখন আরও সহজ ও সহজলভ্য হয়ে উঠেছে। জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে তিনি সরকারি ও বেসরকারি উভয় সংস্থাকেই সম্ভব হলে বাড়ি থেকে কাজ করার ব্যবস্থা এবং ভার্চুয়াল বৈঠককে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মোদি। ভাষণ দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, "আমি স্কুলগুলোকেও আবেদন করব যে, তারা যেন কিছু সময়ের জন্য অনলাইন ক্লাসের ব্যবস্থা করে এবং সেভাবেই এগিয়ে যায়।"

Continues below advertisement

ভারতের জ্বালানি আমদানির মোট শতাংশের মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল, প্রায় ৬০ শতাংশ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ এবং অধিকাংশ তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস আসে হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বড় সঙ্কট দেখা দিয়েছে আমদানিতে। মোদি বলেন, ''দেশের সম্পদের উপর চাপ কমাতে আমাদের সবাইকে দায়িত্ব নিতে হবে।''

অনলাইন ক্লাস ছাড়া আর কী কী করার কথা বলেছেন মোদি ?             

১. এক বছর সোনার গয়না কিনবেন না। ২. পেট্রোল-ডিজেলের ব্যবহার কমান। ৩. এক বছর বিদেশে ভ্রমণ করা থেকে বিরত থাকুন। ৪. রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমান। ৫. ভোজ্য তেলের ব্যবহার কমিয়ে দিন। ৬. বৈদ্যুতিক গাড়ি ব্যবহার করুন। ৭. ওয়ার্ক ফর্ম হোম করুন। ৮. বিদেশী পণ্য ব্যবহার বা কেনা এড়িয়ে চলুন।