নয়াদিল্লি: আমেরিকার সঙ্গে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন ইরানের নয়া সর্বোচ্চ শাসক আয়াতোল্লা মোজতবা খামেনেই। আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল নতজানু না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধবিরতির কোনও সম্ভাবনাই নেই বলে জানিয়ে দিলেন। সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পেশ করেছিলেন দুই মধ্যস্থতাকারী দেশ। কিন্তু সেই প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছেন মোজতবা। (Mojtaba Khamenei)

Continues below advertisement

ইরানে এক শীর্ষ আধিকারিককে উদ্ধৃত করে এই তথ্য সামনে এনেছে রয়টার্স।  জানা গিয়েছে, সর্বোচ্চ শাসক হিসেবে নাম ঘোষণার পর বিদেশনীতি নিয়ে প্রথম বৈঠক করেন মোজতবা। সেখানে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ চরিতার্থ করার উপরউ জোর দেন তিনি। তবে ওই বৈঠকে মোজতবা সশরীরে উপস্থিত হন, না কি ভার্চুয়াল মাধ্য়মে, তা স্পষ্ট নয়।  (US Iran War)

মঙ্গলবার রয়টার্সে মুখ খোলেন নাম-পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক ইরানের ওই শীর্ষ আধিকারিক। জানান, মধ্যস্থতাকারী দুই দেশের তরফে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পেশ করা হয়। আমেরিকার সঙ্গে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেয় তারা। কিন্তু মোজতবা পরিষ্কার বলেন, “শান্তি প্রতিষ্ঠার সঠিক সময় নয় এটা। আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল নতজানু না হওয়া পর্যন্ত, হার স্বীকার না করা পর্যন্ত, ক্ষতিপূরণ না মেটানো পর্যন্ত শান্তি নয়”।

Continues below advertisement

সর্বোচ্চ শাসক হিসেবে নাম ঘোষণা হওয়ার পর এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে দেখা যায়নি মোজতবাকে। কোনও ভিডিওবার্তা আসেনি তাঁর তরফে, শুধুমাত্র লিখিত বার্তাই এসেছে। তাঁর হালহকিকত নিয়ে নানা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। তবে ইরানের ওই আধিকারিকের দাবি, মোজতবার কথাই শেষ। আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের উপর হামলার সময় মোজতবা একটুর জন্য রক্ষা পান বলে জানা গিয়েছে। তিনি আহত হয়েছেন, পা হারিয়েছেন বলেও জোর গুঞ্জন। তবে নিশ্চিত ভাবে কিছু জানা যায়নি এখনও পর্যন্ত। গোটাটাই গুঞ্জন। 

নয় নয় করে তৃতীয় সপ্তাহে পদার্পণ করেছে আমেরিকা-ইজ়রায়েল বনাম ইরানের যুদ্ধ। কমপক্ষে ২০০০ মানুষ মারা গিয়েছেন এখনও পর্যন্ত। পশ্চিম এশিয়ায় এখনও যুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে। হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খোলা হয়নি। আমেরিকার তরফে সেখানে সেনা মোতায়েন করতে সব দেশকে আহ্বান জানানো বলেও, অনেক দেশই এখনও পর্যন্ত তাতে রাজি হয়নি বলে খবর।

এমতাবস্থায় পদত্যাগ করেছেন আমেরিকার জাতীয় সন্ত্রাসদম বিভাগের প্রধান জোসেফ কেন্ট। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের বিরোধিতা করেছেন তিনি। জানিয়েছেন, ইজ়রায়েল চাপ সৃষ্টি করে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে যুদ্ধে যেতে বাধ্য করেছেন। ইজ়রায়েলের ডেকে আনা যুদ্ধে আমেরিকার সম্পত্তিহানি এবং প্রাণহানি তিনি মেনে নেবেন না বলে জানান। পাশাপাশি, বিবেকের ডাকে সাড়া দিয়েই পদত্যাগ করেছেন বলে জানিয়েছেন জোসেফ। ফলে দেশের অন্দরেও ট্রাম্প চাপের মুখে বলে মনে করছেন অনেকে।