নয়াদিল্লি: ইরানের সর্বোচ্চ শাসক হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই বিশ্বকে বার্তা মোজতবা খামেনেইয়ের। জানালেন, কোনও ভাবেই খোলা হবে না হরমুজ প্রণালী। আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলকে হুমকি দিলেন প্রথম বার্তাতেই। পাশাপাশি, ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকাকে দেশের মাটি ব্য়বহার করতে দেওয়ায়, প্রতিবেশী দেশগুলিকেও কড়া বার্তা দিলেন। (Mojataba Khamenei Iran Supreme Leader)

Continues below advertisement

আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের মৃত্যুতে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ শাসক নিযুক্ত হয়েছেন মোজতবা। আর তার পর বৃহস্পতিবার প্রথম বার্তা দিলেন তিনি। নিজে সশরীরে ক্যামেরার সামনে উপস্থিত হননি। তবে বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধই রাখা হবে। 'শত্রুদেশ' আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের উপর চাপ সৃষ্টি করতে হরমুজ প্রণালীকে হাতিয়ার হিসেবে মোজতবা ব্যবহার করতে চাইছেন বলেই মনে করছেন কূটনীতিকরা। (Mojtaba Khamenei)

উপসাগরীয় দেশগুলিকেও এদিন সতর্ক করেন মোজতবা। জানান, যেখানে যেখানে আমেরিকার ঘাঁটি আছে, সব বন্ধ করতে হবে। সেগুলিকে লক্ষ্য করে ইরান হামলা চালিয়ে যাবে, আমেরিকার ঘাঁটিগুলি লক্ষ্য করেই আঘাত হানা হবে বলেও বার্তা দেন। পাশাপাশি, প্রতিবেশী দেশগুলিকে সতর্কও করেন মোজতবা। জানান, তাদের নিরাপত্তা দেবে বলে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে আমেরিকা, তা 'মিথ্যা ছাড়া কিছু নয়'।

Continues below advertisement

মোজতবার প্রথম বার্তা, দেখে নিন একনজরে-

  • পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার সামরিক ঘাঁটিগুলি যত দ্রুত সম্ভব বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় হামলা চালিয়ে যাবে ইরান।
  • প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে সুসম্পর্ক টিকিয়ে রাখায় আগ্রহী ইরান। সেখানে আমেরিকার ঘাঁটিগুলিকেই শুধু নিশানা করা হচ্ছে, আগামী দিনেও হবে।
  • হরমুজ প্রণালী বন্ধই থাকবে, যাতে তেহরানের 'শত্রু'দের উপর চাপ সৃষ্টি করা যায়।
  • শহিদদের রক্তের বদলা নেবে ইরান, সে সর্বোচ্চ শাসক হোক বা নিহত শিশু। 
  • ইরানের সামরিক বাহিনীর সদস্যদের কৃতজ্ঞতা প্রাপ্য। তাঁরা আধিপত্যবাদী শক্তির হাত থেকে দেশকে রক্ষা করেছেন, দেশে বিভাজন সৃষ্টি হতে দেননি। আত্মবিসর্জন দিয়েছেন তাঁরা। 
  • যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোগানো হবে। সেই মতো আলাপ আলোচনা চলছে।
  • এই সঙ্কটের আবহে সমস্ত বিরোধ ভুলে একজোট হতে হবে ইরানবাসীকে।
  • ইরান আত্মসমর্পণ করবে না। পূর্ণ শক্তিতে প্রতিরোধ চালিয়ে যাবে। শুধু আয়াতোল্লা খামেনেই নন, শহিদ হওয়া প্রত্যেক নাগরিকের মৃত্যুর বদলা নেবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলই প্রথম হামলা চালায় ইরানে। আয়াতোল্লা আলি খামেনেই, মোজতবার স্ত্রী এবং পরিবারের অনেকেও মারা যান সেই হামলায়। হামলাস্থলে মোজতবাও উপস্থিত ছিলেন, তিনি আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। এদিন মোজতবা জানিয়েছেন, আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের হামলায় 'শহিদ'দের হয়ে বদলা নেবে ইরান। মিনাবে মেয়েদের স্কুলে আমেরিকার হামলায় যে ১৭০-এর বেশি পড়ুয়া মারা গিয়েছে, তারও প্রতিশোধ তোলা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। 

এদিনের বার্তায় যুদ্ধবিরতির কোনও ইঙ্গিতই দেননি মোজতবা। বরং জানিয়েছেন, 'শত্রু'র থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করেই ছাড়বেন। হয় শত্রুর সম্পত্তি থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করবেন, নয়ত সমান ক্ষয়ক্ষতি করে ছাড়বেন।