নয়াদিল্লি: ইরানের সর্বোচ্চ শাসক হিসেবে প্রথম বার্তা। আর তাতে প্রতিশোধ চরিতার্থ করার বার্তা দিলেন আয়াতোল্লা সৈয়দ মোজতবা খামেনেই। জানালেন, শুধু বাবা বা পরিবারের লোকজনের নয়, আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের হামলায় নিহত প্রত্যেক শিশু, প্রত্যেক নাগরিকের রক্তের শোধ তুলবেন। আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের থেকে সুদে-আসলে ক্ষতিপূরণ বুঝে নেবেন বলেও জানালেন মোজতবা। পাশাপাশি, যুদ্ধে নিহত বাবার দেহ দেখে কী অভিজ্ঞতা হয়, তাও জানালেন। (Mojtaba Khamenei)

Continues below advertisement

সশরীরে টেলিভিশন চ্যানেলে হাজির হওয়ার পরিবর্তে, ইরানের নয়া সর্বোচ্চ শাসক হিসেবে লিখিত বার্তা পেশ করেন মোজতবা। তিনি বলেন, “কথা দিচ্ছি, শহিদদের রক্তের প্রতিশোধ না তুলে ছাড়ব না। প্রতিশোধ তোলার যে ভাবনা, তা শুধুমাত্র মহান বিপ্লবী নেতার (আয়াতোল্লা খামেনেই) মধ্যেই সীমিত নয়। শত্রুর হাতে শহিদ হওয়া দেশের প্রত্যেকের মৃত্যুর শোধ তোলা হবে।” (Mojtaba Khamenei on Father)

বর্তমানে যে পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে ইরান, তাতে শত্রুর মোকাবিলায় প্রত্যেক ইরানবাসীকে একজোট হওয়ার বার্তা দেন মোজতবা। তাঁর বক্তব্য, “এখনও পর্যন্ত সীমিত সংখ্যক শহিদের রক্তের প্রতিশোধ চরিতার্থ করা গিয়েছে। সকলের মৃত্যুর শোধ না নেওয়া পর্যন্ত, এই লক্ষ্যকে অন্য সবকিছুর ঊর্ধ্বে রাখা হবে। মিনাব তৈবা ট্রি স্কুলে ইচ্ছাকৃত ভাবে অপরাধ ঘটিয়েছে শত্রু। একই কথা প্রযোজ্য আরও কিছু ঘটনার ক্ষেত্রে, যেগুলিকে বিশেষ গুরুত্ব দাবি করে। সব হিসেব বুঝে নিতে হবে।”

Continues below advertisement

ইরানের প্রেসিডেন্ট থেকে সরে আসার কথা তাঁরা ভাববেন বলে জানান তিনি। এদিন মোজতবা বলেন, “আমরা শত্রুর থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করে ছাড়ব। ওরা যদি দিতে রাজি না হয়, প্রয়োজনে ওদের সম্পত্তি থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করে আনব আমরা; তাও যদি সম্ভব না হয়, ওদের সমপরিমাণ সম্পত্তি ধ্বংস করব আমরা।”

ইরানবাসীর উদ্দেশে মোজতবা বলেন, “নেতৃবৃন্দ, শক্ত হাতে ন্যায়পরায়নতার পতাকা ধরে রাখুন এবং লক্ষ্যপূরণে সর্বশক্তিতে ঝাঁপিয়ে পড়ুন। যুদ্ধ চলাকালীন দিনরাত যে সাহসিকতা দেখিয়েছেন, আগামী দিনেও তা ধরে রাখতে হবে। যোদ্ধাভাইদের বলব, দেশের মানুষ চাইছেন প্রতিরোধ চালিয়ে যেতে হবে, হরমুজ প্রণালী অবশ্যই অবরোধ করে রাখতে হবে।”

পশ্চিম এশিয়ায় নিজেদের সহযোগী, লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হেজবোল্লা এবং ইয়েমেনের সশস্ত্র সংগঠন হুথিকে ধন্যবাদ জানান মোজতবা। আধিপত্যবাদী ইহুদি শক্তিদের হাত থেকে স্বাধীনতা অর্জনের পথ আরও প্রশস্ত হবে বলেও জানান। তবে বাবাকে নিয়ে কী বলেন মোজতবা, সেদিকে তাকিয়েছিলেন সকলেই। সেই প্রসঙ্গে আবেগঘন বার্তা দিয়ে মোজতবা বলেন, “দুই মহান নেতা, রুহোল্লা খোমেইনি এবং শহিদ আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের আসনে বসা এবং তাঁদের অভাব পূরণ করা আমার জন্য অত্যন্ত কঠিন কাজ। ওঁরা শহিদ হওয়ার পর দেহ দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল আমার। আমি যা দেখেছি, তা ছিল পর্বতসমান দৃঢ়তা।” 

দেশের সর্বোচ্চ শাসক নিযুক্ত হওয়ার পর এই প্রথম বার্তা দিলেন মোজতবা। যুদ্ধ চলাকালীন তিনিও আহত হন বলে খবর। যে সময়ে দাঁড়িয়ে দেশের দায়িত্ব পেলেন, তাতে তাঁর পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেই নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। তবে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের সামনে মাথা নোয়ানো বা আত্মসমর্পণের প্রশ্ন নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।