দিল্লি: ‘সন্ত্রাস’কে দেশ থেকে পুরোপুরি নির্মূল করতে ৩১ মার্চের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আর বাকি ১ দিন। সোমবার লোকসভায় অমিত শাহ জোর গলায় জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নির্ধারণ করে দেওয়া সময়সীমা মেনে ভারত থেকে বামপন্থী চরমপন্থা (LWE)-কে সম্পূর্ণ মুক্ত করার পথে সরকার সঠিক পথেই এগোচ্ছে।

Continues below advertisement

“নকশাল-মুক্ত ভারত” নিয়ে একটি আলোচনা চলাকালীন কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বামপন্থী চরমপন্থীদের (LWE) নির্মূল করার জন্য উল্লেখযোগ্য একটি অভিযানের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন যে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে “৭০৬ জন মাওবাদীকে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে, ২,২১৮ জন মাওবাদীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ৪,৮৩৯ জন মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছে”।

নিরীহ আদিবাসী সম্প্রদায়কে যারা অসৎ কাজে ব্যবহার করছে, তাদের তীব্র সমালোচনা করেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, “তারা সবসময় দাবি করে যে, তারা আদিবাসীদের অধিকার ও ন্যায়বিচারের জন্য লড়াই করছে, কিন্তু বাস্তবে তারা তাদের হিংসাত্মক মতাদর্শ ছড়াচ্ছে। গণতন্ত্র বা উন্নয়নের প্রতি তাদের কোনও আস্থা বা ভাবনা নেই।”

Continues below advertisement

শাহ আরও জানান, “আজ ছত্তিসগড়ের বস্তারে নকশালবাদ প্রায় শেষ। মানুষের সাহায্যে ও পাশে থাকতে প্রতিটি গ্রামে স্কুল করা হয়েছে। রেশন দোকান খোলা হচ্ছে, নিয়মিত ৫ কেজি খাদ্যশস্য বিতরণ করা হচ্ছে। আধার কার্ড তৈরি করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে এবং মানুষের কাছে মৌলিক সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে যাচ্ছে।”

লোকসভায় দাঁড়িয়ে অমিত শাহ বিরোধী দলের কাছে প্রশ্ন তোলেন। বলেন, স্বাধীনতার পর ৭৫ বছরের মধ্যে প্রায় ৬০ বছর কংগ্রেস দেশ শাসন করার পরও কেন বস্তারের জনগণকে উন্নয়নমূলক সুবিধাগুলো থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল? তিনি আরও বলেন, "২০১৪ সালের পর, যখন প্রধানমন্ত্রী মোদী ক্ষমতায় আসেন, তখন প্রত্যেক গরীব মানুষ একটি করে বাড়ি, গ্যাস সংযোগ, পানীয় জল, বিমা এবং খাদ্যশস্য পেয়েছে। বস্তারের জনগণকে কেন বঞ্চিত করা হয়েছিল? এর কারণ কী তবে লাল সন্ত্রাস?"

অমিত শাহ স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, যারা সাংবিধানিক ব্যবস্থা মানবে না, অস্ত্র হাতে তুলবে, তাদের প্রতি সরকারের কোনও সহনশীলতা নেই। তিনি বলেন, “যে বন্দুক হাতে তুলে নেবে, তাকে তার মূল্য চোকাতে হবে।” পাশাপাশি মাওবাদীদের আত্মসমর্পণ করে জীবনের মূলধারায় যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান এবং তাদের পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।