নয়া দিল্লি: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ গড়াল ২৪ দিনে। একদিকে ইরান ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে মুহুর্মুহু মিসাইল ছুড়ছে। অন্যদিকে ইরানে টানা বোমাবৃষ্টি করে চলেছে ইসরায়েল ও আমেরিকা। এদিকে, পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে সংসদে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ নিয়ে রীতিমতো সতর্কবার্তা শোনালেন নরেন্দ্র মোদি। এদিন সংসদে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'সঙ্কটের মুখে সংসদ একজোট হোক, এটা কাম্য। যুদ্ধের মধ্যে বহু ভারতীয় এখনও দেশের বাইরে। যুদ্ধের উপদ্রুত এলাকায় আটকে পড়া ভারতীয়দের সাহায্য করা হচ্ছে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ, তেল নিয়ে জাহাজ চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ। ভারতে যাতে জ্বালানি সঙ্কট না দেখা দেয়, সেদিকে নজর দেওয়া হয়েছে'।
কী কী বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে চলেছে সে বিষয়টিও জানান মোদি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'LPG সঙ্কটের দিকে নজর দেওয়া হয়েছে, উৎপাদনও বাড়ানো হয়েছে। আগে ২৭টি দেশ থেকে জ্বালানি আমদানি করা হত, এখন চল্লিশের উপর দেশ থেকে তা আমদানি করা হয়। দেশের জ্বালানির ভাঁড়ার ৬৫ লক্ষ মেট্রিক টন পর্যন্ত বাড়ানোর কাজ চলছে। তেল-গ্যাস-সার নিয়ে যাতায়াত করা জাহাজ যাতে সুরক্ষিত থাকে, সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে। গত এক দশকে ইথানলের উৎপাদন বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে। ডিজেল ছেড়ে রেল এখন বিদ্যুতে বেশি চলাচল করায়, জ্বালানির সাশ্রয় হচ্ছে। এতে ভারতের ভবিষ্যত সুরক্ষিত হবে।'
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধপরিস্থিতি নিয়ে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী। এদিন তিনি বলেন, 'ভারতের কাছে খাদ্যশস্যের কোনও অভাব নেই। আমদানি করা সারের পরিমাণ কমলেও, তাতে অসুবিধা হবে না। সারের দাম বাড়লেও, ভারতীয় কৃষকরা আগের মতোই কমদামে সার পাচ্ছেন। গ্রীষ্ম আসছে, সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন বজায় রাখা যুদ্ধের মধ্যে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ । কয়লার ভাঁড়ার মজুত, পুনর্ব্যবহারযোগ্য শক্তি উৎপাদনে জোর, সঙ্কট কাটাবে। জলবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে'।
এরপরই মোদির সতর্কবার্তা, 'ভারতের অবস্থান স্পষ্ট, যুদ্ধ থামাতে সবপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে। জাহাজে হামলা, নাগরিকদের উপর আক্রমণের সমালোচনা করা হয়েছে। একমাত্র কূটনৈতিক আলোচনাই শান্তি আনতে পারে। উপকূল, সীমান্ত এবং সাইবার সুরক্ষাকে আরও বেশি মজবুত করা হয়েছে। যুদ্ধের সঙ্কট দীর্ঘমেয়াদি হবে, সবপক্ষকে একজোট থাকতে হবে। ভারতকে এই পরিস্থিতিতে সাবধান থাকতে হবে। কালোবাজারি যারা করছে, তাদের মোকাবিলায় সমস্ত রাজ্য সরকারকে নজরদারি বাড়াতে হবে'।
