নয়াদিল্লি: গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপানি ৬ দিনের বিদেশ সফরে গিয়েছেন, সেই সময়টাকেই মুখ খোলার জন্য বেছে নিলেন বিজেপিরই তিন এমএলএ। তিনজনেই ভদোদরার। ওয়াগোধিয়ার মধু শ্রীবাস্তব, মঞ্জলপুরের যোগেশ পটেল ও সাভলির কেতন ইনামদার। বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ বুধবার গুজরাতে ছিলেন। গুজরাত তাঁর নিজের রাজ্য। তার মধ্য়েই মিডিয়ার সামনে আসেন ওই বিদ্রোহী বিধায়করা। রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী ও আমলারা তাঁদের কথা শুনছেন না, তাঁরা জনপ্রতিনিধিদের প্রতি উদাসীন, আমলাদের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেই বলে অভিযোগ করে তাঁরা দাবি করেন, দলের আরও অনেক বিধায়ক রাজ্য সরকারের ওপর ক্ষুব্ধ। ৬ বারের এমএলএ মধু শ্রীবাস্তব তাঁদের মতো ক্ষুব্ধ বিধায়করা শীঘ্রই প্রকাশ্যে আসবেন বলে জানান। বলেন, আজ এই তিনজন এলাম। ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ হাত মিলিয়েছি। কাল কিন্তু সংখ্যাটা ১৩ বা ২৩ হতে পারে। যা কিছু ঘটতে পারে এখন। ৬ মাস আগে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই রাজ্যের আমলারা নিজেদের খেয়ালখুশি মতো চলছেন। মন্ত্রীদের সঙ্গে নির্ধারিত দিনে দেখা করতে গেলে দেখা হয় না। যোগেশ পটেল জানান, ভোটারদের সমস্যার কথা বললে তার মীমাংসা করতে হবে, এটাই আমাদের একমাত্র দাবি। কিন্তু তা হচ্ছে না। তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীকে এসব বলেছেন কিনা, জানতে চাওয়া হলে শ্রীবাস্তব বলেন, আমলারা অনুমতি না দিলে ওনার সাক্ষাত্ পাওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়াব না আমরা। কেতন ইনামদার জানান, সরকার বা দল নয়, তাঁদের রাগ সরকারি অফিসারদের বিরুদ্ধে। সরকার মানুষের জন্য যথাসাধ্য করার চেষ্টা করছে। কিন্তু তার উচিত আমলাতন্ত্রের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা। কিন্তু আমলাদের চামড়া মোটা মনে হচ্ছে। বিজেপি নেতৃত্ব তিন দলীয় বিধায়ককে সামলাতে সিনিয়র মন্ত্রী ভূপেন্দ্র সিং চুদাসামাকে হস্তক্ষেপ করতে বলেছে। তিনি বলেছেন, সমস্যা যা-ই হোক, আমি উপমুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্য বিজেপি সভাপতি জিতুভাই ভাগানি ওদের সঙ্গে আলাদা ভাবে কথা বলে তা মেটাব। রাজ্য বিজেপি মুখপাত্র ভারত পান্ড্য বলেছেন, তিনজনকে রাজ্য সভাপতি তলব করেছেন। ওঁদের বলা হয়েছে, সঠিক জায়গায় যা বলার বলুন।