জয়পুর: বাবার মৃত্যু হওয়ায় স্কুল ছাড়তে হয়েছিল। সপ্তম শ্রেণির বেশি পড়তে পারেননি। কিন্তু পড়াশোনা করার ইচ্ছা বরাবরই ছিল রাজস্থানের উদয়পুর গ্রামীণ কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক ফুল সিংহ মীনার। ২০১৩-তে ওপেন বোর্ড থেকে দশম শ্রেণির পরীক্ষা দেওয়ার জন্য ফর্ম পূরণ করেন। কিন্তু সেবার ব্যস্ততার জন্য পরীক্ষা দেওয়া হয়নি। ২০১৬-তে পরীক্ষা দিয়ে পাশ করেন। ২০১৬-১৭ সালে দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষাও পাশ করেন এই বিধায়ক। এখন ৫৯ বয়সে তিনি স্নাতক স্তরের পড়াশোনা শুরু করছেন। প্রথম বর্ষের পরীক্ষাও দিয়েছেন। এই বিধায়ক জানিয়েছেন, ‘বাবার মৃত্যুর পর পরিবারের ভরণপোষণের জন্য আমাকে চাষের কাজ শুরু করতে হয়। একদিন আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলে মেয়েদের শিক্ষার বিষয়ে প্রচার করতে গিয়ে নিজে বেশি পড়াশোনা করতে পারিনি বলে বেদনা অনুভব করি। আমার মেয়েরা এই যন্ত্রণার বিষয়টি বুঝতে পারে। ওদেরই উৎসাহে ফের পড়া শুরু করি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও প্রকল্পে অনুপ্রাণিত হয়ে আমি নিজের কেন্দ্রের তফশিলী জাতি ও উপজাতির মেয়েদের স্কুলে ভর্তি হতে উৎসাহিত করছি। যারা দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষায় ৮০ শতাংশের বেশি নম্বর পাবে, তাদের বিনামূল্যে বিমানে জয়পুর ঘুরিয়ে আনার কথাও ঘোষণা করি। ২০১৬ সালে দু’জন এবং ২০১৭ সালে ৬ জনকে এই সুযোগ দেওয়া হয়। তাদের সম্বর্ধনা দেন মুখ্যমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রীরা। এই পড়ুয়াদের বিধানসভাতেও নিয়ে যাওয়া হয়। আমার প্রচারের সুবাদে ছাত্রীদের পরীক্ষার ফল ভাল হচ্ছে। তফশিলী জাতি ও উপজাতি ছাড়া অন্যান্য সম্প্রদায়ের ছাত্রীদেরও পড়াশোনায় উৎসাহ দেওয়ার জন্য তাদেরও ভাল ফল করলে বিনামূল্যে বিমানে চড়ার সুযোগ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছি।’