‘একটা কানফাটা আওয়াজ, ঝাঁকুনি, বুঝতে পারলাম, শূন্যে ঝুলছে আমাদের কোচ’
ABP Ananda, web desk | 20 Nov 2016 01:24 PM (IST)
পুখরায়া: কয়েক ঘন্টা আগে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। আচমকাই কানফাটা একটা আওয়াজ আর ঝাঁকুনি। ঘুম ভেঙে অন্ধকারে কিছুই দেখতে পারছিলেন না। শুধু বুঝতে পারছিলেন, চারপাশের সব কিছুই লণ্ডভণ্ড হয়ে গিয়েছে। পরের মুহূর্তেই বুঝতে পারলেন, তাঁদের কোচটা শূন্যে ঝুলছে। কোনওক্রমে হামাগুড়ি দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন দীপিকা ত্রিপাঠী। বুঝতে পারলেন, কী ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটে গিয়েছে। প্রায় ৪৫ জন আত্মীয়র সঙ্গে নিয়ে ইন্দওর-পটনা এক্সপ্রেসে সওয়ারি হয়েছিলেন দীপিকা। তাঁদের মধ্যে ছিলেন তাঁর বাবা-মাও। যাত্রীরা যখন ঘুমিয়ে রয়েছেন, তখনই ঘটে যায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা। কিন্তু অন্য একটি কোচে ছিলেন দীপিকার বাবা-মা। তাই কোনওরকমে রক্ষা পান তাঁরা। দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া ট্রেনের সামনে দাঁড়িয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছিলেন ৬০ বছরের বিন্দ কুমার ত্রিপাঠী। মাঝরাতে আচমকাই কোচে তীব্র ঝাঁকুনিতে ঘুম ভেঙে গিয়েছিল তাঁর। সাক্ষাত্ মৃত্যুর কবল থেকে ফিরে এসে ত্রিপাঠী বললেন, আমার বন্ধুরা প্রথম ও দ্বিতীয় কোচে ছিল..ওরা মারাত্মক আহত হয়েছে..আমাকে উপরওয়ালা রক্ষা করেছেন। উল্লেখ্য, উত্তরপ্রদেশের কানপুরের পুখরায়ানে ইন্দওর-পটনা এক্সপ্রেসের ১৪ টি বগি লাইনচ্যুত হয়। এই ঘটনায় অনন্ত ১০০ জনের জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত দুশো জনেরও বেশি।