নয়াদিল্লি: সংবিধানের ৮০ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুসারে আজ নতুন চার সদস্যকে মনোনীত করলেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। এই চার নতুন সদস্য হলেন কৃষক নেতা রাম শাকাল, আরএসএস তাত্ত্বিক রাকেশ সিনহা, শিল্পী রঘুনাথ মহাপাত্র ও নৃত্যশিল্পী সোনাল মানসিংহ। লেখক ও আরএসএস তাত্ত্বিক রাকেশ ‘ইন্ডিয়া পলিসি ফাউন্ডেশন’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সাম্মানিক ডিরেক্টর। এছাড়া তিনি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্ত মোতিলাল নেহরু কলেজের অধ্যাপক। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ সোশ্যাল সায়েন্স রিসার্চেরও সদস্য তিনি। বিভিন্ন সংবাদপত্রে নিয়মিত কলম লেখেন এই আরএসএস তাত্ত্বিক। রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যসভায় বিভিন্ন বিষয়ে সরব হবেন রাকেশ। পাথর খোদাই করে বিভিন্ন ভাস্কর্য নির্মাণের বিষয়ে ওড়িশার শিল্পী রঘুনাথের আন্তর্জাতিক খ্যাতি রয়েছে। ১৯৫৯ থেকে তিনি ভাস্কর হিসেবে কাজ করে চলেছেন। তাঁর ছাত্র সংখ্যা দু’হাজারেরও বেশি। পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের সৌন্দর্যায়নের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রাচীন স্থাপত্য ও সৌধ সংরক্ষণের বিষয়েও কাজ করে চলেছেন তিনি। এই শিল্পীর তৈরি ৬ ফুট উচ্চতার বেলেপাথরের সূর্য মূর্তি সংসদের সেন্ট্রাল হলে রাখা আছে। তাঁরই তৈরি কাঠের বুদ্ধমূর্তি রাখা আছে প্যারিসের বুদ্ধ মন্দিরে। ২০০১-এ পদ্মভূষণ ও ২০১৩-তে পদ্মবিভূষণ খেতাব পেয়েছেন রঘুনাথ। সম্প্রতি ‘সম্পর্ক ফর সমর্থন’ অভিযান উপলক্ষে ভুবনেশ্বরে গিয়ে এই শিল্পীর সঙ্গে দেখা করেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ। এবার রথযাত্রার দিনেই তাঁকে রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে মনোনীত করা হল। রাজনৈতিক মহলের মতে, আগামী বছরের বিধানসভা নির্বাচনে ওড়িশায় ভাল ফল করাই বিজেপি-র লক্ষ্য। সেই কারণেই এই রাজ্যের গর্ব রঘুনাথকে সম্মানিত করা হল। ভারতীয় শাস্ত্রীয় নৃত্যশিল্পী হিসেবে বিখ্যাত সোনাল। ৬ দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি ভরতনাট্যম ও ওড়িশি নৃত্যের সঙ্গে যুক্ত। তিনি বিখ্যাত কোরিওগ্রাফার, নৃত্য শিক্ষিকা, সুবক্তা ও সমাজকর্মী। ১৯৭৭ সালে দিল্লিতে ভারতীয় শাস্ত্রীয় নৃত্য কেন্দ্র গড়ে তোলেন সোনাল। উত্তরপ্রদেশের কৃষক নেতা রাম শাকাল ১৯৯৬, ১৯৯৮ ও ১৯৯৯ সালে বিজেপি-র হয়ে রবার্টসগঞ্জ থেকে লোকসভা নির্বাচনে জেতেন। সারাজীবন ধরে দলিত সম্প্রদায়ের জন্য কাজ করে চলেছেন তিনি। কৃষক, শ্রমিক ও অভিবাসীদের জন্য তাঁর কাজ সব মহলেই সমাদৃত। রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য, লোকসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে দলিতদের কাছে টানতেই শাকালকে রাজ্যসভায় মনোনীত করল বিজেপি।