লখনউ: একটা সময়ে যেখানে মাছি গলার জায়গা থাকত না, আজ সেই জায়গা এতটাই ফাঁকা যে বসে মাছি তাড়ানো ছাড়া কোনও কাজ নেই।

এমনই করুণ অবস্থা লখনউয়ের ঐতিহ্যশালী দোকান তুন্ডে কাবাবি-র। ১৮৯৭ সালে শুরু। শতাব্দীপ্রাচীন এই দোকানের অন্যতম সেরা আকর্ষণ ছিল বিখ্যাত 'গালাউটি কাবাব'।

শোনা যায়, প্রায় ১৫০ ধরেনের বিশেষ মশলা দিয়ে এখানে তৈরি হতো ওই কাবাব। যার খ্যাতিও দেশজোড়াতো বটেই, বিশ্বজোড়া ছিল। বহু দেশী-বিদেশি পর্যটক এখানে আসলে একবার তুন্ডে কাবাবি-তে ঢুঁ না মেরে যেতেন না।

আর সেই তুন্ডে কাবাবি এখন কার্যত শুনশান। তুন্ডে কাবাবির ওই কবাবের মূল উপাদানই ছিল গরুর মাংস। এবার উত্তরপ্রদেশে বিজেপি সরকার আসার পরই রাজ্য প্রশাসন অবৈধ কসাইখানা নিষিদ্ধ করে দেওয়ায় কার্যত মাথায় হাত পড়েছে এই দোকানের।

শুধু তুন্ডে কবাবি নয়, একই অবস্থা লখনউয়ের বিখ্যাত শতাব্দীপ্রাচীন কাবাব-খানা রহিম সহ একাধিক দোকানের। মাংসের আকালে এখন সকলেই বিপুল লোকসানের সম্মুখীন।

ফলে বাধ্য হয়েই এখন গরু-মোষের মাংসের পরিবর্তে তুলনামূলক দামী মুরগি ও খাসির মাংস দিয়ে কাবাব তৈরি করতে বাধ্য হচ্ছেন দোকানিরা। কিন্তু, তাতেও শেষরক্ষা হচ্ছে না।

আবু বকর নামে তুন্ডে কাবাবির এক কর্মকর্তা জানান, ১২০ বছর ধরে গালাউটি কাবাবের প্রণালির মূল উপাদান বদলে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই বদল এসেছে তার স্বাদে। ফলে, কয়েকদিনের মধ্যেই ৮০ শতাংশ ক্রেতা কমে গিয়েছে। তিনি জানান, সকলেই দাম দিয়ে মুরগি বা খাসি কিনতে পারেন না।

রহিমের কর্তা হাজি বিলালও একই কথা শোনালেন। তাদের বিশেষ আকর্ষণ ছিল ‘নিহারি’ ও ‘পসন্দা’ পদগুলি। তিনি বলেন, এখানেও কাবাবের মূল উপাদান ছিল মোষের মাংস। এখন বিক্রি প্রায় ৮০ থেক ৯০ শতাংশ কমে গিয়েছে।

অন্যদিকে, এই মওকায় এখন রাজ্যজুড়ে মুরগি ও মাটনের দাম অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পরবর্তী পদক্ষেপ স্থির করতে দোকান বন্ধ করে বৈঠকে বসেন বিভিন্ন কাবাবখানার মালিকরা। সেখানে স্থির হয়, আপাতত দাম বাড়ানো ছাড়া কোনও গতি নেই।